Thursday, 23 August 2012

দশ ৩


পুনর্বার 


এসব কিচ্ছু নয় , বস্তুত তোমার মধ্যে ডুবে আছি
রঙচঙে সেমিনারের মধ্যে খিদের মত ;
প্রতিষ্ঠিত শারীরিক রূপান্তর মধুমেহের প্রাদুর্ভাব
ঘটিয়ে দিলে সফেদ বিছানায় ঝরে বীতকাম ।
আকাঙ্ক্ষার নদীতে রুপালী মাছ উজ্জ্বল
ঢেউ এ ত্বরিৎ এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত জল কেটে
যে উৎসাহ সৃষ্ট করে দৃষ্টিতে ,
সেখানে লালসা পূর্ণতা প্রাপ্তি নেশাই আমার বর্তমান ।


বস্তুত ভুল হয়ে যাই সমস্ত হিসাব দ্রোহের লেনদেনে
শুধুই শূন্য সংখ্যা , অবিরাম সংগ্রামে লিপ্ত
শরীরক্রিয়,ঘামের প্রতিক্রিয়ায় ফুলের প্রাথমিক রূপ
যা হস্তান্তর যোগ্য , যা গমন সক্ষম
সেসব ফুলের নিচে আস্তানা গারি ,
ভ্রমরের খিদে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ওঠে নির্জন নদী কূলে
এসো কাঙ্ক্ষিত নারী
মর্যাদাহীন শরীর সময়ে লীন হই জৈবিক নিয়মাচারে
বার বার পুনর্বার ।








সহজতম 



বৃষ্টিতে সহজাত রূপকথা হয় , আত্মবিস্মৃতির
অন্তরালে কে মনে রাখে ভিখারিনীর নাভিপদ্ম
ঘন বর্ষায় !
এখানে বর্ষা হয় পাখির ডানায় ডানায় , মৃত পাখির কোটরের
মধ্যে বানভাসি জলের কোলাহল সমৃদ্ধিতে লাফাতে লাফাতে
গবাদি পাশু ধান গোলা তেপান্তরের পেড়িয়ে ,
কে মনে রাখে ভিখারির ন্যাংটো জ্যামিতিক রসায়ন !

ডিনার টেবিল , জ্বলতে থাকে চাঁদ , অসৎ রাত্রির
প্রহর গুলো যেন প্রেমিকার স্তন , লুফে নাও , নগ্ন করো
ঘুমন্ত অঞ্চল , বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো - বিচ্ছিন্ন থেকে
সমাজের রস চুষে চুষে ছোঁবরা ফেলো ভিখারিনীর গায়ে ,
সেও প্রতিরোধহীন অনন্ত বুনে বুনে --
এবার নিঃস্ব ;




সুকান্ত 



খিদে , পাক খেতে খেতে , পাক খেতে খেতে
মুচড়ে ওঠে নাড়ি , জিহ্বায় বিস্বাদ পিত্তরস ,
জল ঢালো গলায় , পুনশ্চঃ ঢেঁকুর উদ্গিরন , তখন
স্বাদকোরক গ্রন্থি দ্রুত জালিকা বিন্যাসে সুসম্নাকাণ্ড দিয়ে
খবর পাঠায় ঊর্ধ্ব মস্তিস্কে ;
মহারাজ মস্তিস্ক খানিক নিবদ্ধ থেকে নিজ স্থানে
দ্রুত পরিচালন করিয়ে দেয় দ্বেষ ,
যারা সংযমী তারা পেটে গামছা বেঁধে খাটিয়ায় তৃতীয় 

বিশ্ব দেখে , যারা সন্ধিহান অথবা প্রতিবাদহীন অথর্ব
তারা ভবিতব্য কিম্বা ঈশ্বরে গালাগালি করেন , আর
যারা মাথা টা রেখেছেন নিজের মাথায়
তারা প্রত্যেকেই একটা সুকান্ত ভট্টাচার্য ।








দুই 




কন্দর্পহীন এই অন্ধকার আমার
আমার পালিত বর্তমানে তাদের সুখভোগ ফলিত বিজ্ঞান
আমার আত্মাভিমানে শঙ্খনাদ শব্দ
আমার মৃতমুখ তরবারি অগ্র ।



দ্দদ্দদ

এ সুখের সময়ে গান নেই
এ সুখের সময়ে প্রজাপতি হুতুম
এ দিনান্তে অভুক্ত সারি সারি মৃত ঈশ্বর
এ পৃথিবীতে শকুনের উৎপাত , এবার ভাগাড়




উন্মাদ

আমার ঈর্ষা হয় ভাতের থালা থেকে মাংসের গন্ধ উঠলে ,
আমার ঈর্ষা হয় পার্সের মধ্যে গান্ধী মূর্তি মুখ দেখিয়ে
আবারও পার্সের মধ্যে ঢুকে গেলে ,
আমার ঈর্ষা হয় সো-কেসে বেবিফুডের মুখ দেখানো বিজ্ঞাপনে , বরং
এসো এবার প্রকাশ্যে যুদ্ধ হোক ধান খেতে
আমার কাস্তে তোমার কাস্তে , বরং
প্রাত্যহিক অনাহারী থাকার যুদ্ধ হোক ,
আমার হৃদয় খচির মানচিত্রে দ্যাখো উজ্জ্বল দেশ , সবুজের আস্তারন,

সবুজ বিপ্লবের পট আঁকা , খাটি সোনা
আমার উচ্চারণে দ্যাখো অভাব , আমার দেশ , আমার জনগণ ,
আমার স্বপ্নে দ্যাখো ঈশ্বর সম্বন্ধীয় ভাবাবেগ আত্মসমর্পণ কলা
স্থির প্রত্যয়ে যুগ যুগান্ত ধরে ভাস্বর ,

সমস্ত জ্যোতিষ্কপ্রভা চন্দ্রিমায় উজ্জ্বল ভাস্কর্য আজীবন
ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমমুখী সমভাবে উপেক্ষার সীমানা উপ্রে জীবনের গানে ,
অথচ , তোমাদের প্ররোচিত শরীর যা দুদিনের ভ্রান্ত নভেশ্চর-----

চিরদিন এই গর্ভগৃহে আমাদের জন্মের ইতিহাসে
উপেক্ষার অনলে পুড়ে রচে যাই তোমাদের ইতিহাস ।




গুঞ্জন 


সমাধি ফলকে লুপ্তপ্রায় অক্ষরগুলি এযাবৎ
সূর্যমুখী থেকে সূর্য প্রতিদ্বন্দ্বী , কেননা সূর্য অনেক পথ
যাবে বলে পথ করে নেয় , সমাধি সেসব উত্তরণ দেখতে
দেখতে ফুটন্ত নক্ষত্রর নিচে আধো-ঘুমে হেমন্ত-বসন্তের
নব নব উচ্চারণে প্রশস্তি লিখে রাখে , সমাধির সমগ্র
প্রতিশ্রুতির ভগ্ন পাদদেশে নিখিলের অবিশ্বাস দৃশ্যকলা
এই পরিত্যক্ত মৃত্তিকার জমা হয় ।

এখন নক্ষত্রলোকের নিচে ভাঙ্গা কান্নার স্বর নির্বাক রাতে
সত্বর ব্যথিত সময়ের শরণার্থীর মত ঝরে পড়ে ,
গুঞ্জন , দ্যাখ মাইগ্রেশন পেয়ে জীবনের দ্বিতীয় যাত্রাপথে
আমি একা , বহু রাত শুয়ে আছি খোলা পৃথিবীর নিচে !

সেই সব প্রতিশ্রুতি জেগে উঠলে মনের সাথে সর্বদা খেলা করে
রামধনু নির্ভর সেসব শ্রাবণ , আর উৎকীর্ণ হৃদয়ে
আঠারোর উতরোল ধ্বনি --
সে সবের ফসলের পরিনতির দিকেই তো যাবার কথা ছিল !

এখন এই নিঝুম নিস্তব্ধতায় শঙ্খচূড় সাপের শীতঘুমে
অনন্ত রাত , কামনার বিষের থলিতে পরস্পরের আমাদের
অবিশ্বাস ক্রমান্বয়ে বাড়ে -------
তুমুল হ্রস্বধ্বনি গ্রাম থেকে ভেসে আছে এদিকে-----
এসো এবার পাশাপাশি থাকি ফলকে মুছে যাওয়া অক্ষরের অভ্যন্তরে ।




 আছি 


কবে থেকে আছি , চুপচাপ ;
শরীরের ঘ্রাণ মেখে পোশাক পাল্টে পাল্টে
শিখে নিয়ে ভাষা , মানুষের মুখ , মানুষের তির্যক মুখে
অহরহ শীত বসন্তে
গান , বিন্দ গানে কীর্তনের ব্যথাতুর হৃদয়ে এঁকে প্রেম
রাত্রি আর দিনের কাব্যের সম্মেলনের দিকে দিক্বিদিক হেটে
রঙ মেখে , সুগভীর রঙ মেখে
ছুঁয়ে ছুঁয়ে পাখির বাসা শ্মশান চিতা কাঠ 

উজাগরি বাথানে - গোময় আল্পনায় উঠোনের সিগ্ধ সকালে
সূর্যের রঙ্গিন পুচ্ছ ধরে কালাতীর্ণ নদী প্রবাহ ঢেউ
সুনীলের অকৃপণ শব্দ সম্পাদনায়
পৃথিবীর আবহসঙ্গীতে রঞ্জিত হৃদয়ে বারোমাস , বারোমাস
ক্ষেত- খামার কৃষাণী বধুর ঘামের গন্ধে , আহা , কাঁঠালের
গন্ধে বুনো মাছি এঁদো পুকুরের ল্যাঠা মাছের
কুচের পলল অন্ধকারের যাপন ,
শহুরে শারদীয়া
নিয়ন বন্যায়
কংক্রিট খেটে খাওয়া হাত-পা , লোকাল ট্রেনের পণ্য

এসব কবেই হয়ে গেছে মলিন থেকে মলিনতর ,
ঢের পথ হেটে হেটে ক্লান্ত প্রাণে ,
ওহে , কে বাঁজাও তুমি বাশি ?
এ গন্তব্যে ঝরে গেছে দৃষ্টি , অপর্যাপ্ত হৃদয়ে বেদনার আবহমান
অন্ধকারে কে তুমি - কে তুমি
সৃষ্টি করতে চাও সুরেলা সঙ্গীত ?
একবার এসেছিলাম এখানে , তার পর মানুষ , মানুষের ভিড়ে
কৃপণ থেকে কৃপণতর এ হৃদয়ের
কোন সে দাওয়া আছে , সেখানে বসাই তোমায় ?





তরুন কবি 



তরুণ এক নির্ভেজাল কবি , শব্দ ডাকছে আয় , তবুও
চাইবাসা নেই হারুন অল রশিদের রাজ্য নেই বেহেড মাতলামি
আছে চুল্লু ঠেকে , বাবার পেনশনের টাকাতে যেসব কবিতা আসে
মনে তাতে সমাজ নেই , অবক্ষয় নেই
শুধু নিজেই দাঁড়িয়ে আছে সেখানে ,
গভীর রাতে আনাগোনা শুরু হলে মিত্রাক্ষর ছন্দের
তাকে পাত্তা দেয় না নাগরিক কবি
এক বিশ্ব হন্তক চেতনা কুড়ে কুড়ে খেয়ে গেলে অস্তিত্ব
কবি লেখেন " প্রেম এই জীবনে আর কত দুঃখ দিবি তুই ? 


সায়ক ২৫ 

হেমলকের তৃষ্ণা এসেছে জীবনের প্রতি ,
অক্ষরের ওপর অক্ষর চাপিয়ে যতই যাপন বিভ্রান্ত করি
ওহে নাগরিক কবি জীবনকে ফাঁকি দিয়ে শব্দের প্ররোচনায়
কোন অন্ধকার স্পর্শের পড় আমার সূর্য-ভোর ?
ঈশ্বরের লীলাভূমি ফুল-ফলের প্রাগৈতিহাসিক মুগ্ধতা নিয়ে
নশ্বর জীবনের আয়ু রেখা দীর্ঘজীবী হোক অন্য সকলের ,
এক দিকে এই শব্দ নেশা অন্য প্রান্তে বুভুক্ষ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের
প্রাত্যহিক হাহাকার ------ বলো , বলো কবি 

কোন সময়ের কথা বলে ?
ভেবেছিল মন জীবনের যা অপূরণীয় ক্ষতি মিটিয়ে নেওয়া যাবে
শব্দে শব্দে বন্ধুদের হৃদপন্দনে ,
সংকীর্ণ জীবনের পথে ঋণ বেড়ে যাই সময়ের কাছে , তবুও
তুল্যমূল্য বিচার ব্যতিরেকে জড়িয়ে ধরি যেসমস্ত বৃক্ষ
ছায়া দেবে , দেবে সুমিষ্ট ফল -- আর রসনার অঙ্গ
পরিতৃপ্ত হ'লে -----------------
কিন্তু ঐ পর্যন্তই , যে সময়ের কথা বলি সে সময়
কল্পনার রাজত্বের বাস্তবের কাছে অসহয় , বড় অসহয়

সায়ক , এই কবির অনুমতি প্রত্যাশায় দিন আসে না খিদে আসে না ।
মাথার কোন এক অভ্যন্তরে শব্দ এলে ভুল করে ----
চোখের জল গাঢ় অভিমানে ঝরে গেলে শব্দে
কোথা থেকে হাততালি শব্দে ভ্রম ভাঙ্গে মনের --
নিজেই নিজের কাছে জোকার , সকলে ভাবেন কবিতা লিখেছে খাসা ।










দশ ২


উজ্জ্বল চাকা 


বিনম্র ভাবে জানাচ্ছি চলে যেতে দাও , পৈশাচিক
দৃষ্টির অন্তরালে চলে যেতে দাও , যাবজ্জীবন ছাই-ভস্ম মেখে
উত্যক্ত করেছি , তিরের ফলায় বিদ্ধ করেছি করোটি- মজ্জা
তাতেও নেভেনি লোভ , মহাশেকড় উপ্রে খুনি নামে
বাঁচতে পারবো সে বিশ্বাস নেই , মহাফেজখানায়
ঢুঁকে যাবার আগে শেষ খানাতল্লাশি করে নিলে নাও ,
পথ দাও , আর একটুও তিক্ততা নেই ঠোঁটে,
উপনিষদ থেকে এখন অবধি ঢের ক্ষয়েছি বিষাদ কাব্যে -

আর সংক্রমণের ভারে ধপাধপ পতনের শব্দে
চলে যেতে দাও ।

শেষ সুযোগ এবার , এতকাল দু'জন দু'জনার তাজা রক্ত খেয়েছি,
শেষ বেলাই তুই পালিয়ে গেলি
ত্রিশঙ্কু পার্লামেন্টে এখন তোর মূর্ত সাম্রাজ্যবাদ ,
নির্বাচনী ইস্তাহারে তুই মন ভোলাতে জানিস , দ্যাখ , দ্যাখ --- তোর
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে
ভাঙছে আমার প্রতিটি কোণ ,
বোধহয় , অসম দুই কোণে আমি আর তুই
আমাদের ভবিষ্যৎ ,

শোন , পালিয়ে যেতেই হবে আমার ,
শেষবার পালিয়ে যেতে যেতে দেখে যেতে চাই তোর পরাজয় ! 





বধির

নিরুত্তর ব্যর্থতা ভুলে যাবে ? আত্মচরিত হতে রক্ত খুঁজি
যেন লেগে আছে শ্বাপদ জিহ্বায় হাজার বছর ,
হিংস্র প্রলাপে নৃশংসতা জেগে ওঠে চন্দ্রাহুত রাতে , একমাত্র
শববাহক অশরীরী নপুংসক রাত্রি ভেঙ্গে শান্তি চিতায় গঙ্গা ঢালেন ,
তড়িদাহত সময়ে শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আর বিতর্কিত জতু গৃহে
জ্বলন অনন্ত দগ্ধ হাহাকার ,
এখানে আপেক্ষার সমান্তরাল নেই প্রেম , বিচ্যুতি নক্ষত্রের নিচে

ঘুমানো ঘোড়ার জীনে কে অপলক দৃষ্টি রেখে সঙ্গমের মত্ততায়
বলে সব স্তব্ধ হয়ে যাবে একদিন ?
এসো , এসো সমস্ত কংকাল বোধ , অনির্বাণ প্রশ্বাসের মুখে
গলিত স্থবির প্রতিস্থাপিত শরীর শালীনতার মন্ত্রণায় গলে যাই ?
আপেক্ষার নির্যাসে ধাতু আয়ু ক্ষয়ে ক্ষয়ে পুত্রকল্পে যজ্ঞাগারে
তাবৎ রতি বিভ্রম , মানি কৃত বিশ্বাসে উৎপাদনশীল হাতুড়ে
জন্মানো মেশিনে তির্যক কোণে নিয়ত ভাঙ্গে ঈশ্বরীকলা ।

এখানে আগুনে মুখ রেখে সেই তো শরীর তাপানোর গল্প লেখা হয়
বংশানুক্রমিক লয়ে ।
দূরে কোথাও খোলা চাঁদে কীর্তনভাসে মাঠের অনুমত্যানুসারে -- 












সূচনা পর্ব

এই বর্ষা অন্য কিছু লিখে গেছে হাওয়াই , নাম , জানিনা
তার পরিচয় , জন্মান্ধ বিশ্বাসে সে এসেই পড়েছে ,
অন্ধকার পথ আসে নির্জন একা , তার মুখে চুমু খাই -
হেসে উঠি , তার ছোট্ট আঙুল খুঁজি - আমার হাতুড়ি শাবলের
করতলে রাখি তার হাত , অভিমানে বলি তারে ভালোবাসি ,
ভালোবাসি আমি তোকে সর্বোত্তম উত্তাপে , সে ভাষা বোঝে না ,
এই তিমির কালেই যদিও তার আবির্ভাব ,
আমিও সেসব ভুলে গিয়ে জঠরে কান পাতি , শ্বাসের শব্দে

 শব্দে
বৃষ্টি নামে টালি চালে , ধুয়ে যাই গাছের পাতা শালিকের নীড় ।
বন হতে বনান্তরে পাখির পালকে উড়বার স্বাধীনতা , আর
ঈশ্বরের অভয়ারণ্যে এসে দীপ্ত ঘোষণা ক'রে সে জীবন
এসেছি দীর্ঘ পথ পেরিয়ে , এসেছি সর্বাত্মক ডাকে মাতৃত্বের ,
প্রবাহমান শুকতারা স্মৃতি ধরে রাখে পিতৃত্বের আবহমান
প্রেমের জন্ম দাগের , দীন পরিচয়ে শঙ্কিত হৃদয় এক মোলায়ম
সন্ধ্যায় ভুলে গিয়ে দৈন্যতা হেসে ওঠে , হেসে ওঠে
অবিকল ঈশ্বরের অনুরূপে , নিজেকে ঈশ্বর ভেবে ।






অ১

মাস্তুলে বসে থাকা পাখি
ঢেউ গুনে নিল
এদিকে নামলো গোধূলি

বুঝি ভোর হয় কোনখানে
ফজরে ফজরে 


অ২
বনস্পতি ছাই রেখে গেল স্মৃতিতে
মাটিতে বিলীন মাটি

যে সব জন্ম বলো
সারি সারি কবরের ভূমি

মাটি জন্ম মৃত্যু মাখামাখি








 গ্রহনে অপ্রাগ 


কতটুকু নেবে তুমি এ চেনা-অচেনা রঙ্গভূমি
দিতে পারি হৃদয়ের উষ্ণতা সমস্ত ভাটিয়ালি ।
কোন ইতিহাস নেই ব্যাঙ্ক লকারের স্বাদু গন্ধ ,
বিক্ষিপ্ত মঞ্চে আলোয় ক্ষণিকের স্বপ্ন , দ্যাখ লীলা
লেখা থাকে তাদের পরম্পরা , চারিদেকে চতুর
প্রেমের ভ্রুকুটি জ্বালাময়ী তেজে দেহের অধিক
আর কতই বা জ্বালাবে তুমি , বল ? সে বিপণন
নিঃস্ব যেদিন অথবা পণ্যে অন্য হাত,ভুলভ্রান্তি 

যেসব ভাষা শেখাবে তুমি ? রাত জাগা চোখে ঘুম
ঘোড়ে প্রলাপ বকলে - আমি জানিয়ে দেবো নারীত্বে
আছি , নির্দ্বিধায় এসে আবৃত করো শরীর দোহে
মিতালী সঙ্গম করো গর্বিত অহংকার ভেঙ্গে

এ আমার জিত নয় পুরুষ নারীত্বের নিয়তি -
অভিমান আছে আহত হরিণীর নিষাদ বনে




এই শতকের গান 


এই ঘূর্ণি সামাল দেবার নয় , চূর্ণবিচূর্ণ প্রেমিক নগর
চেনা- অচেনা সন্ধ্যা ছটফট অভিমান ঝাঁঝালো শরীরে
ভীতু মনের ভেতর দিয়ে শিরদাঁড়া ভাঙছে এই ঘূর্ণি ।
ভেসে যাচ্ছে উবে যাচ্ছে সমস্ত মেনুফেস্ট
কচ্ছপের মাথা ঢুকছে বেরোচ্ছে
সর্পিণী সঙ্গম রাহুগ্রস্থ চন্দ্রিমা শঙ্কিত বিভ্রমে
ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতম হয়ে আসা হাতের পাঞ্জা কোন শক্তিতে
ধরে রাখবে এই বাখারি ? তার 

উশৃঙ্খল মেধ যা সমন্বয় রেখেছিল আমার চোখের সঙ্গে
তীব্র আবেগে , আজ আগুন , দিকে দিকে দগ্ধতার বারোমাস
কুটিল ষড়যন্ত্র , পাশাপাশি পাশার নিমন্ত্রণ
রোজ রোজ আবেগতারিত জনসভা লাইভ টক সো
ঘূর্ণিতে ভাঙছে সময়ের মানচিত্র ,
এও উত্তাল কাপালিক কাল , শ্মশান ছাই বিষণ্ণ আগুনের মুখে
আমার একুশ , আমাদের একুশ শতক
শতহস্ত দূরে থাকো প্রেমিক
রক্ত সংবহনে কামসূত্র জাগিয়ে রাখো বিষ দাঁতের অন্তরালে ,
তন্ময় হও বিভোর হও শরীরে শরীরে
এই দশকের ষড়যন্ত্রী রিপু , এই শতক স্বপ্ন ও সমাধি ।


সম্ভবপর 

সমস্ত দৃষ্টি বিভ্রম আয়ু পথ খোঁজে অজান্তেই ,
সম্ভবপরের জন্য সমস্ত সম্ভবনার পথ বাঁচিয়ে রাখতে হয়
জীবনের প্রয়োজনে , শিল্পীরা বলেন শিল্প !
তাবৎ ভবিষ্যৎ নিয়ে বর্তমানের কুঠিতে
আলোর সুর শেখো ;
ধমনীতে পুরুষানুক্রমী রক্ত প্রবাহে জিনের নিগূঢ় অবসাদ
যা আমার নয় তার ভাগ পেয়ে
জানি খুশী নই , অনিবার্য আগুন সময়ের সামনে দাঁড়িয়ে 

শোক ভোল , লীন হতে শিখে নাও নিজের আত্মজে ,

সময়ের প্রবঞ্চনায় যা কিছু কুলসিত স্বপ্ন মায়া প্রেম
তিথি নক্ষত্র বদলের মত এরাও একদিন
কোন একদিন বিলীনের চিত্র আঁকে পটে , যেন হাজার
রাতের মাঝে প্রথম প্রভাত , তুমিও লুটে নাও সূর্যের রঙ
আর এই অনুভূতির প্রভাত রাখো অনন্ত কাল বাঁচিয়ে ।

একবার সমস্ত পথ তাদের ভুল যাত্রাপথ ভেবে থামে , এবং
পুনরায় ফিরে আসে চেনা পথে ভালোবেসে সত্য শাশ্বত
সনাতনী বিশ্বাসে , সম্ভবপর চিরকালীন বিশ্বাসের জন্ম কুঠির -
যে মর্যাদায় ধান পাকে , সেই বিশ্বাসে তোমার হৃদয় ঈশ্বরের ঘর ।








রাহুকাল 


পুরনো প্রেমিকার ঠোঁটে চুক চুক শব্দ করে চুমু খাই ,
ঠোঁটে লেগে থেকে আঠালো থুথু ,
আমাদের প্রাগৈতিহাসিক রাত্রি পাথরে সহবাস সন্তান উৎপাদন
সব কিছুই কেমন নিষিদ্ধতার আবহে ম্লান ,
কিঞ্চিৎ জন্ম আর ছয় পাউণ্ড শরীর নিয়ে প্রাদুর্ভাব কালে
জীবনের সমস্ত ব্যর্থ প্রয়াসের লেখচিত্র পর্যায়ক্রমে
পথ ক'রে দেয় ,
এর পর খেটে খাওয়া স্বপ্নরা রাতের রঙমহল মিনাবাজারে 

প্লাটফর্ম গুমটি থেকে তুলে নিয়ে স্বাদ পরী ,
এক হাতে পৃথিবী রেখে অন্য হাতে রাখে সম্ভোগ !

এইরূপ পৃথিবীর বেচাকেনা , রথের মেলা , পার্বণ ,
অরন্ধন , জাতিয় শোক এলে
সমস্ত দিন বোধহয় একা একা রূপ বেচে ক্লান্ত হ'লে
পৃথিবীতে রাত নামে , আর এই সব শোকের ছবি
কামারশালার হাপরের টানে জ্বলতে থাকে ,
আমিও রাত চিনি , প্রাচীন রাতের শিকারি
সমস্ত প্রেমিকার ঠোঁটে চুমু খেতে খেতে ক্লান্ত যেবার
ভয়ানক প্রাচ্ছাবের বেগ ,
সমস্ত সৃষ্টি গর্ভ তাকিয়ে থাকে কামনিয় ঈশারায় ,
বুঝিনা সেসব , ইউরিন খালাস হতে হতে
শুনি মঙ্গল শঙ্খধ্বনি , সৃষ্টি নবরূপে , আমার পতনে ।







ভগ্নস্তুপ

ধরে রাখতে গিয়ে দেখেছি
পড়ে গেছে চালুনি থেকে সর্ষে দানার মত ছোট ছোট সময় ,
আর অসহ্য তারুণ্য নিয়ে সমস্ত উত্থান - পতন
যাপন বিস্তার করে যেবার স্থির , তখন , চতুর্দিকে প্রভূত ঝড় উঠেছে
উপ্রে গেছে মহারুহু শেকড় , যার
শাখা- প্রশাখা বাঁকলে ঝড়ের স্মৃতি ।

কখনও দোষারোফ করিনি

জন্ম - পুনর্জন্ম , রাতের নেশাতুর কলা থেকে যে বৈভব ঝোরে পড়ে,
অট্টালিকার চতুরকোণ সূর্য ঢেকে দিলে
নমনীয় ঝিঁঝিঁর ডাকে কোমল সন্ধ্যায় , অথবা
ল্যাম্পপোস্ট নিয়ন বাতি -- আলো- আঁধার
ক্রুশবিদ্ধ যীশু দেওয়ালে পাশাপাশি পেন্ডুলাম ঘড়ি , দিন মাপে --
সমস্ত নোনা মাটির দাওয়ায় শীতলপাটি , রাধিকার
মান - অভিমান ------
সমগ্র স্বপ্নের আনাগোনা
সমস্ত গুণীরা যে নেশা ছড়িয়ে রাখে এখানে ওখানে --
তাদের তো দোষারোফ করিনি আমি ।

বদলের ঘোড়ার পিঠে চড়ে
দিন বদলের গান মাঠ পেড়িয়ে রোদ ভাঙ্গে ,
কতোসব মুহূর্তরা অতীত হতে বর্তমানে , আর বর্তমানের মুহূর্তটা
একদিন দরজার কড়া নেরে ক্লান্ত হয়ে ফিরে যাওয়ার পথে
চিলের ছোঁ মারার মত বৃষ্টি নামে
দুপুর থেকে অপরাহ্ণ থেকে সাঁঝের নব্যতায় ছেঁড়া চোখে অপূরণীয়
দৃষ্টিতে ধরে রাখতে গিয়ে দেখি
যবনিকা পতনের দৃশ্য আঁকছে রাত্রি ।

সমস্ত দায়ভার নিয়ে সময়ের গ্রন্থিতে গ্রন্থিতে শ্মশানের শোক বার্তা ,
সমস্ত দিন ধরে আগুনের শোকাতুর হরি সঙ্গীত গেয়ে চলে
বিরামহীন আগুনের সন্তান ,
সময়কে ধরে রাখা হাতে অনাহুত বর্গীর ন্যায় অনায়াসে
তলোয়ার উঁচিয়ে ধেয়ে আসে পতনের সম্রাট ,
তির্যক দৃষ্টিতে প্রতিরোধ গড়ি মরা ঘাসের উপর শুয়ে থেকে -
মরণের আগে অথবা মরণের পড়ের চরিত্ররা
ধান বোনে পিত মাটিয়ে
তার নবান্নের স্বাদ গেল না মরণে -জন্মে -- মরতে মরতে ,
পরাধীন নয় শরীর , অথচ বর্ণের কাছে স্বচ্ছ জলের কাছে
কি প্রত্যাশায় না রাখে ,
কাঠ কয়লা উনুনে ভাতের হাড়ি লাল আলু জ্বলতে থাকে
আর মুহূর্তেই খিদেরা অনায়াসে
প্রতিষ্ঠানের মোহে ধান ভাণে শিবের গীত গেয়ে
লাল নীল নিশানার দিকে ভয়শূন্য দৌড় ।

কিচ্ছু ধরে রাখিনি আমি , আমার ধরে রাখার না রাখার মুহূর্তের পড় থেকে
শুরু হয় নিয়মতান্ত্রিক সমাজ , প্রেম , বিরহ
শহীদ বেদীর রক্ত গোলাপের স্মৃতিসৌধ ;
যা কিছু সমসাময়িক অথবা নিলামের ঘর পশুখামার রাজদম্ভ
দণ্ডকৃত আসামী , ফরিয়াদি , বনেদী গৃহ শয্যা নিজে আস্ত সাম্রাজ্য
আলোতে সমুজ্জ্বল প্রবাহিত আলকানন্দা 

প্রত্যাশার পারদে তামার ঐতিহ্যময় আমিও উড়ে গেলে ঝড়ে
এখানে পড়ে পড়ে থাকে মহেঞ্জোদারোর ভগ্নস্তুপ ।



দশ ১


শত্রু

পতঙ্গের চেটে নেওয়া ফুলের সুগন্ধ দৃশ্যে ব্যথা দিয়ে যায় ,
ঘোরতর ব্যথা সূর্যের আস্তরাগে ভ্রান্ত দিশা দিয়ে গেলে
পড়ে থাকে বিসম মুখ সন্ধান পর্বের বেলা ।
বলিষ্ঠ ভাবে সকলেই সকলকে ব্যবহার করে যায় স্তন্যপায়ীর
মত , তারপর নিদ্রাপর্বে অনিবার্য শিহরণ , সূচনার গর্বিত
অভাবনীয় উল্লাস ক্লান্ত করে দিলে মূল্যায়নের খাতায়
শূন্যর সংখ্যা বৃদ্ধি । ভালোবাসা পরাজয়ও মানে , হরিণের
পায়ে পায়ে বেঁচে থাকার নক্ষত্র গতি শ

ার্দূল ভয়ে যেবার স্বাধীন-
ভালোবাসাও তদ্রূপ পরাজয়ের মধ্যে গুছিয়ে রাখে আগামীর প্রতীক্ষা ।
উন্মাদ গ্রস্থ হৃদ স্রোতের মত ডানা মেলে কার কাছে যেন
আশ্রয় চেয়ে যাই , অথচ অদ্ভুত সকল পুরুষ মাংসের লোভে
কার কাছে বারবার সর্বাত্মক দ্বার খোলার আহ্বান রাখে ,
যথাযথ প্রবেশের অধিকারে উন্মক্ত করে নিজের পেশীবহুল
অহংকার , আর এভাবেই পরিনাম লেখা থাকে
পূর্ণতা - অপূর্ণতার অনিচ্ছাধীন আড়তে !
এভাবেই প্রলুব্ধতার আতশবাজি প্রতিনিয়ত রঙ মাখিয়ে দিলে
সমস্ত অপ্রাপ্তিই যেন বিশ্বাস ভঙ্গকারী শত্রু !








স্ট্রিট লাইট

দৃশ্যত অদৃশ্য মনে হয় না , অদৃশ্যর মধ্যে
সব দৃশ্য ঢুকে গেছে তোমার ।
যেটুকু সার্বজনীন সেখানে সোনার নেকলেস স্লিভলেস ব্লাউজ
সুদৃশ্য নদী বাঁক অশ্বখুরাকৃতি গ্রীবাতে
রোদের উজ্জ্বল্য মন বিভ্রামের যাবতীয় সামগ্রীর বিজ্ঞাপনে
মহাপ্রলয়ের সংকেত ।

সিক্সলেন ওয়ান ওয়ে পিচ রাস্তা ধরে সকালের রোদ খেলা করে
জল-পাতার প্রতিবিম্বে , মাঝে মধ্যে শহুরে ধূলিঝড়
ম্যাড়ম্যাড়ে বৃষ্টি শহরের সেক্স সিম্বল নায়িকাকেও কাঁপিয়ে দিলে
তোমার শরীরের মধ্যে কাঁঠাল পাকা গন্ধ ওঠে
বুঝিনা , কোন খানে আছো তুমি
নহবৎে না জমকালো পার্কস্ট্রীট হেডিঙে মোচ্ছব রাতে ।

জোয়ান চাঁদ যৎসামান্য আলো ঢেলে দিলে পাতার ফাঁকে ফাঁকে
নীলরশ্মি সর্বভুক খিদে বাড়িয়ে
রাতের উপপাদ্য জুড়ে নিজেকে প্রমাণের ইচ্ছাতে সর্বাধিক প্রিয় শব্দ
তোমার দিকে ঠেলে দিয়ে
শরীরের ভাস্কর্য খুঁজি
তামাম স্ট্রীট লাইট যেমন অন্ধকারের প্রত্যাশায় দিন গুজরায় !








আততায়ী

তবে কি বিভক্তি লেখা হচ্ছে ভেতরে ভেতরে !
ভুলে যাচ্ছি এই অমোঘ বাস্তবের
অন্তরালে যতখানি সত্য তার চেয়ে প্রভূত উচ্চাকাঙ্ক্ষায়
দাসত্ব ঘনীভূত হচ্ছে তোমার বিনুনি চুলে ।

মহুয়া হেমব্রুম , সরল স্বীকারোক্তি'তে ব্যক্তি স্বাধীনতা লিখে রাখছি ,
আগামীর কাছে যা কিছু বিন্দু বৈ উপাঙ্গ প্রদাহ

দিয়ে গেলে তুমি লোকায়ত আড়ালে মিশে যেও ,
স্রেফ কাগজ কলমের অথবা বেকার সময়ের প্রলাপের কাছে
নামিয়েছি দেখে ঘৃণা করো আমায় ,
সার্বজনীন দেবীর মত তোমার মুখে সহজ- কিম্বা সমাজতান্ত্রিক এত ভীড় --
দেখে ক্লান্ত জোঙ্গাল কাঁধে চাষার মত পিপাসা বাড়ে
মাঠের খনন বিন্দুর স্থানে
আমার অনুপস্থিতি যেভাবে শস্য উৎপাদন ঘটিয়ে দিতে পারে
ভয় লাগে , বড্ড ভয় লাগে

দুর্বার এই দৌড় , ঋতুর অরণ্য ছোবার আগে
তোমার সীমান্ত পৌঁছানর ইচ্ছায় নেপথ্যচারিনি হয়ে
আততায়ীর ছুরির ফলার রক্তে লেখ আমার নাম ।










উত্থানপতন

প্রতিটি চলে যাওয়া দৃশ্যর অভ্যন্তরে
আদম্য লিপ্সা রেখে যাও ;
নিয়ত নীরব থাকি বলে ভাবো এ অসুখের লক্ষন নয় ,
যেভাবে ঢুকে যাও তুমি গ্রহান্তরের পর্দাশিনে
দেখে আমি জানালা খুলি
বুকের মাতমে হাত রাখি
কতখানি তুলে নিলে এই আকাশ তোমার দাসত্ব মানে
আর আঙুরের খেতে পৌঁছেও বারবার টক ঢেঁকুর উদ্গিরন

তমাম জীবনের প্রচ্ছদে
ছিন্ন-ভিন্ন সব আমারই মূর্তি ।

তোমার উন্নত শীরে নত হয়েছিল একদিন জীবন , এখন
চর্চিত জীবন নীরবতার ভাষা খুঁজে পেয়েছে বলে ভেবো না
গাছের ছায়াতে বসবার ইচ্ছা নেই ,
জেনো , যতখানি চুপচাপ থাকি
সেই নীরবতার মধ্যে তোমার উত্থানপতন ।










আগুন পিপাসা

এই পথে দ্বিরাগমনের সমুদ্রপিপাসা রেখে
পুনর্বার কি জন্ম পাওয়া যায় !

বলিহারি তোর স্বভাব ! নির্লজ্জ অন্ধকারে গলিমুখে
স্বভাবভীতু পিশাচ-দানব , পাশে উল্টে বিয়ারের ক্যান
আধপোড়া সিগারেট টুকরো , আর তুই অগোছালো রক্ত মানবী
রাতের লক্ষ্মণগন্ডি বুঝে নে ,
এখানে তাবৎ রাত জুড়ে সীতাহরণ পালা 

পদস্খলন শব্দে হাসবে সব জ্যান্ত শব , না আছে জটায়ু
বলিদানের কৃতসংকল্পে !

সব ভুলে যাওয়া যেত যদি , যদি সমস্ত নিষেধ নিমেষে
উবে যেতো , যদি ডাকতে পারতাম , মা
সমগ্র পথ তোর ,
আমি সমাজ , আমি তোর বর্ম --------- তবে

আমি মেয়ে , দ্বিরাগমনের পথে পথে আবাল্য হাসি রেখে
নিরস্ত্র খেলতাম ঈশ্বরের সাথে ।









সংলাপ প্রলাপ 


পিপাসার লম্বা হাতে দরপত্র উঠানামা পণ্যের ,
রাহুকাল , সঙ্গম পিপাসা , রতি আহূতি জানান দেয়
অনুশাসনের সীমিত অধ্যায়ে
পিপাসা ছড়িয়ে যৌন বৃক্ষ নতজানু ,

ওঠাপড়া বোঝাপড়া দৃশ্যকল্পে সুদৃশ্য সবাক চালচিত্র
মতি বিভ্রম , রতি বিভ্রম দিয়ে গেলে
আধুনিক প্রঞ্জলে 

জন্ম মৃত্যু সন্তান উৎপাদন , অথচ স্বর্ণ খনিতে
শরণার্থী বিক্ষোভ ।

শ্বাসরোধী সেই অহংকার কৈ , যে জীবন চিনেছিল
মরণের আগে ;
গলিত শব দুর্গন্ধ বৈ যা রেখে পুনর্জন্ম প্রত্যাশী সেখানে
বিশ্বাস নেই , আছে ধাতু রোগের প্রলাপ সংলাপ ।







মহাজন 

অগ্নি বলয়ের মধ্যে সেই চোখ , যা ভাবলেই
আশ্চর্য এক আবহের মধ্যে ডুবে যায় , আজও
ভেঙ্গে পড়ে যাবতীয় নিজস্ব সুরক্ষাবলয় ,
বোধন আর বিসর্জনের অদ্ভুত তারুণ্যর সামনে
সেই তুমি , তুমিই দাঁড় করালে আমায় ?
সময়ের মুন্সিয়ানায় আজন্ম বড় হচ্ছি হরির লুটে
আগ্রাসী হাত রাখছি , বদলের ঘোড়ার পিঠে
চেপেছি , গড়গড় গড়িয়ে যাচ্ছে বেলা ।


এবার সহজ সাবলীল ভাষায় প্রতিবাদহীন
বৃক্ষের মত স্থিরতা দিলুম ,
অলৌকিক মাঠ কে মাঠ রবিশস্যর গন্ধে
হে পিপাসা
ঈশ্বর চেন , প্রত্যাশায় কাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত
রূপভেদের গল্পপাঠ উহ্য রেখে
জন্মান্ধ জন্মে যষ্টিতে রাখো বিশ্বাস ।

আটপৌরে হও , শ্যামলী বঁধুর মত সিঁদুরের মান্যতায়
শেকড় আরো গভীরে ঢুকে গিয়ে
মরমীয় জল আনো , আদ্ভুত গোধূলি আর ধানের খেত
পিছু ফেলে ছুটবো যেদিন
মহাজনের দরজায় কার ছায়া ? তোমার ?





 মৎস্য শিকারি 


নিয়ত জাতক বলয় টপকে রুপালী স্বাদু মাছ
গভীর প্ররোচনায় কেন উঠে আসো স্রোতের বিপরীতে ,
এখানেই বুঝি আঁতুড় ঘর ?
এখানেই বুঝি সমস্ত মৎস্যকন্যা গর্ভবতী হয় ধর্মে- অধর্মে !

তুমি জানো না । শিলালেখ মুছে গেলে শুধুই পাথরের কাঠিন্য
হরদম পাথর ভাঙ্গাকলা সক্রিয় হ'লে
অজন্তা ইলোরার স্মৃতি-বিস্মৃতির গর্হিত কোণে 

প্রলাপের মধ্যে আসুরিক উন্মাদনা ,
চাক্ষুস তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ধরেছি স্বাদু জলের মাছ , আর বিভ্রম নয়
বলে দিলাম ।

আর উপেক্ষার কথা নয় , তোমার সেই মেধাবী পুচ্ছ
যা হালধরে , পেটের চর্বির মুগ্ধতা , আহা , খিদে
রাক্ষুসি খিদে বাড়ছে , বাড়ছে পড়ন্ত যৌবনে ।
এবার বলতে পারবে না তুমি পুনরায় জাতক বলয় দাও
সর্বনাশী শরীর রেখে যাচ্ছি ,
তুমি বলতে পারবে না এই অজ্ঞাতবাসের কথা ,
আমিও ভণিতা শিখিনি , বলে দিয়েছি
অতীত হতেই আমি চমৎকার মৎস্য শিকারি ।









Sunday, 5 August 2012

kichumichu 666666666


আমি পিতা ......

বসন্ত হাওয়ায় পিদিমের আগুন নিয়ে যায় , নাভি উষ্ণতায়

ভগবানও মোম , দাহ্য পাশাপাশি , নিবিড় ,
নেই বিষাদের জন্ম ,
এবার পিতা হবার পালা

আমি পিতা

ঝাপট খেতে খেতে ডানা উল্টে সময়ের এক সালিখ বা চড়ুই ,
উঠোনময় সিদ্ধ ধান ,
ফাগুণের মনকাড়া বেলা বাড়ে ,
চাপে চাপে স্তন ফুলে ফেঁপে আস্ত পাহাড়
অভুক্ত রেখো না খোকা
আমাকে দুধ দাও মা জননী ।

আমি পিতা ......

উষ্ণ উপত্যকায় ভ্যাপা চাঁদ নিয়ে রাত নামে নিয়মের যন্ত্রণায় ,
কৃষ্ণসাগর, তোমার তামাম চোখে জলবায়ু সন্ধিতে প্রস্তুত ,
খুলে দিই একাদশীর জানালা
একঝাক উত্তরে হাওয়া... শীত শীত ভাব
শিশু ওঠে কেঁদে
তোমার বুক থেকে আমার ঠোঁট সরে যায় ...
হেসে ওঠে নিয়ম ।

আমি পিতা ......

দূরত্বের প্রাচীরে আমি তুমি , মাঝখানে রঙ্গিন স্বপ্নের স্থান ,
সংগোপন কথা , এক দিন নির্দ্বিধায় দুজনে ,
এখন লজ্জায় , ঘর ভরে যায় আলোয় , চুপ করো ,
জেগে আছে দ্বিতীয় ভগবান ,
নির্বিষ হয়ে যায় রাত , হাত নেমে আসে যার যার মাথায় ,
ঘুম ভাঙ্গে
আমিও তবে কি হয়েগেছি ভগবান !













রহস্য

ঘুম যাযাবর হ'লে গ্রহন্তরে কিছু কাঠ পোড়ে ,
মহিমান্বিত ঐতিহ্য ভেঙ্গে পরে মানবের ।
জীবন , দেখেছো কিনা কোন সুন্দর অভ্রান্তের

ছবি , যে প্রেম চেনাবে !
আবৃত রহস্যের মায়া জালে নট-নর্তকী ভোগে
তীব্র জৈবিক উন্মাদনা , নিঃশেষিত প্রাণ-বায়ু
যেবার স্বাধীন , প্রিয় কিছু জলে, দেওয়ালে ফুলের
মালায় দৃশ্য সুখ কিছুদিন !

কালান্তরি ব্যাধি আমি সর্বস্যে গভীর অঙ্গে ,
প্রতি মুহূর্তে ভেঙ্গে পরে স্বর্গের সিঁড়ি, যেমন
ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে সেই বন্দীর মত
চোখ বন্দ করে থাকে মৃত্যু ফিরে যাবে বলে !

হাজার রহস্যের মোড়কে একটা জীবন
শ্মশানে জন্ম আছে রহস্যে নেই অবশেষে













পথ

বহুদিন যাবৎ আত্মসাৎ করে প্রজাপতি রঙ
ভেবেছিল বাদবাকি রঙ সব ফ্যাঁকাসে ; আয়েজনে
মাতোয়ারা মচ্ছবেসোম রসে 

ভোজনে রসিক নাগর । এদিকে আশ্চর্য এক ভ্রূণের
রসে মজেছে জঠর
তারা ভাবেছিল শুদ্ধ করে নেবো বিজ্ঞানে বাঞ্ছিত-অবাঞ্ছিতের
লালন দায়ভার ।

এতদিন যাবৎ ফুলের মত যা কিছু সত্য অভ্রান্ত অনুরণনের অরুণ জেগেছিল ;
পাপড়ি ভাঁজে অফুরান যৌন সংক্রমণ , আর নিষাদের মন জুড়ে
খানিক খানিক শরীর , সব সরীসৃপ গমনে
প্রতিরাতে ভুলেছে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য !

আজ প্রতি আঁধার রাতে মাঠে জ্বালিয়ে ন্যাড়া ; বিধর্মী যতো বক ধার্মিক
সেঁকে নিয়ে হাত-পা
খুঁজে নিক খামারের ঠিকানা ; ওরা জানে কি
কত পথ পাড়ি দিতে আছে বাকি ?










নীল খামে হাত রাখেনা কেউ

হাতুড়ি শাবলে কোদালে ঘামে রক্তে গা মোছামুছি করি ,
নিরুত্তাপ চাঁদ দেয় শ্লেষে গা গরম দৌড়
কার অভিমুখে ? কে জানে ! 

পঞ্চবটীর ঝোলানো ডাক বাক্সে নীল খামে
চিঠি পরে আছে নিলাদ্রির , চিঠি পরে আছে ,
পরে থাকি হেমন্তে হেমন্তে ;

নীল ডানা'য় ভর করে উদাসী হাওয়া এলোমেলো ,
নট নর্তকী ঘুম ভেঙ্গে আড় চোখে দেখে নেয়
রক্তদাগ আছে কি লেগে বিগত জীবনে'র ,
পিত পাথরে ইয়েতির ফসিলস পথিকের
মুগ্ধতার ইতিহাস নেই লেখা তবু
ক্লান্ত করে দেয়
ক্লান্ত করে করে্‌ , খোঁজ খোঁজ ;

সুগন্ধি মশলা ব্যবসায়ী পাল খুলে দেয় জাহাজের ,
মাল ওঠে , মাল নামে বন্দরে বন্দরে ,
ঘামে ঘামে লেখা হয় চিঠি ,
নীল খামে ভরে ঠিক ঠিকানায় ।
পঞ্চবটীর ডাক বক্স
হাওয়ায় দোলে না
এক অভিমুখে স্থির
চিঠির নীল খামে হাত রাখেনা কেউ ।







তথাগত

অনিবার্য এক অন্তঃমুখী নিত্য উৎপাদিত চাহিদা'য়
শান্তি নাই , ফ্রেমে লটকে আছে সন্তান টিউশন
ফিস স্ত্রী অলঙ্কারের গন্ধ ; চড়া রোদ,নিরুৎসাহি

সাংসারিক বৃষ্টি মুছে দিচ্ছে মুখচ্ছবি গত বিগত
সত্যাচার ! মুখে বলিরেখা উজ্জ্বল , কাটাকুটি ,
জটিল জ্যামিতি বিন্যাসে আবদ্ধ সময়ের জন্ম ঘর ।

সমুজ্জ্বল বৃক্ষেরা অনন্তবার শীতলতার আহ্বান ।
লাজুক মুখে এক সাম্য যুবক তার নিচে , গুটিকয়
রাখাল বালক শিখছেন পশু প্রেম ---
আমিত্ব বর্জিত হ'বার ইহকালিন আনন্দধারায়
ভেসে থাকার সুপ্তকথা !

ঐ যুবক বৃক্ষের নিচে বিলীন হয়ে গেল একদিন ---

তথাগত ইহকালের আগুন দিয়ে গেলেন প্রত্যেক মনে ---
ভুতকাল নয় , একালের পরমপ্রাপ্তি , বিশ্বাসে










ঈশ্বর অবিশ্বাসী দামাল

অনেকবার সামনে পতন দেখেও মাথা নোয়াইনি
কোন কৃত্রিম মূর্তির পাদদেশে ; সবুজ সংকেত
পেয়ে যারা সাঁ সাঁ বেগে চলে গেছে আমার পাশ দিয়ে ,

তারা কেউ আমার বন্ধু ছিল কেউবা বন্ধুর বন্ধু কিম্বা
পরিচিতি অর্ধপরিচিত অথবা সুদখোর বাপের সন্তান ,
একে একে সব্বাই গাড়িতে উঠে গেছে , যেখানে আমিও
চড়তে পারতাম , আয়েশ করে বসে বলতে পারতাম
"বন্ধুর সাথে শেয়ার করে সিগারেট খাওয়ায় মজাই আলাদা !"

বারবার "মিস" করি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যবস্তু , ইচ্ছাধীন নয়
যে সব পার্থিব জগতের ইচ্ছা নামক বস্তু , সেখানে যখন
পৌঁছায় যেন "হরির লুটের" শেষ হরি আমি , সব
উপাদেয় আহার সামগ্রী উবে গেছে অন্য মুখে ! মা তবুও
উৎসাহ দিয়ে যান " লেগে থাক , লেগে থাক "

আর আমিও স্বউৎসাহে প্রতিবার এগিয়ে যায় এক মায়াবী
জাদু মোহে , অবশ্য ফিরে আসতেই হ'য় কুয়াশা মোড়কে
চুপিসারে নিস্তব্ধতায় ! তখনি দেখি শিশির বিন্ধু জমেছে শরীরে ,
হাত দিয়ে দেখি শিশির নয় সমগ্র শরীর থেকে লাভা বেরুচ্ছে
আর অসহ্য এক যন্ত্রণায় নিবদ্ধ থেকে দেখি -------
অন্ধকার ভেঙ্গে স্বলজ্জিত চোখে উঠে আসছে সূর্য -- , অথচ
আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না !

পিতৃদেব বুঝে গেছে "অকাল কুস্মান্দু " পয়দা ভুল বশতঃ গ্রহের ফেরে !
আমি ও ঐ চোখের দিয়ে তাকাই না --- আঁধার নামে একসময় ,
আমি মা'কে খুঁজি শুধু ,
আমার মৃত্যু নেই ক্ষয় নেই ধ্বংস নেই লেখা চিত্রগুপ্তের খাতায় --
আমি মা'য়ের স্তন খুঁজি , আমাকে পুনরায় অমৃত দাও মা ---










রোগশয্যা

আর খানিকক্ষণ আলো রেখো জ্বালিয়ে ,
স্যালাইন বোতলে বিষ ঢুকিয়ে শেষ লড়াই ,
মৃত্যুতে নয় , যত ভয় ছিল জন্মে ; অষ্টাদশ দিবস

নামলো বোধহয় , সঞ্জয় আমি কিছু শুনছি না কেন ?
সচারচর নিষ্কর জমি নারী'কে ছিনিয়ে নিতে হয়
মরণের আগে , আর তর্জনীতে নাচিয়ে দিনকাল
অস্থাবর বাড়িয়ে কেবিনে দ্যাখো দিব্যি শীত ঘুমের
প্রস্তুতি ; ঘুম আসে ? ঘুম আসে না ?

মরণ

অহেতুক নয় বংশী , কারন আছে বলিষ্ঠ জোরালো এবার ;
অনেক বসন্তে ফলিয়ে ফসল সুখী নই ?
প্রেমে হারজিত মাপিনি বেলুনে তুলেছি নিজেকে অহরহ ,
পাইগণ্ডা ছারিনি শরিকে , সমগ্র মাঠে আমার ধর্মের
ফসল ফলিয়ে ক্লান্ত আমি ?
এখনো অনেক বাকি আছে , বীজতলা , জল সিঞ্চন ,
অগ্রহায়ণে ধানের গন্ধ নবান্নের সে সব রাতে ...
এক পাগলী
আমাকে পাগল করার আগেই .........

জন্ম

ভয় নেই আকাশে ভেসে থেকে ...
কতবার পৃথিবী ঘুরে গেল আমাকে পেছনে রেখে ...
বিশ্বাস ছিল জলের কাছে মাটির কাছে স্নেহ চুম্বনে'র কাছে
ফিরে আসে প্রিয়'রা এভাবেই ,
এক রোগ্‌ এক মৃত্যু এক হাহাকারে
ভুলেছি জন্ম
ভুলেছি মৃত্যু
ভুলেছি দেশ কাল পিতৃ পরিচয় ...
যত ক্ষেদ ক্ষোভ সন্তান চুম্বন স্বাদ ঠোটে নিয়ে
খোলস বদলে'র খেলা ----










ইদানীং কিছু অদম্য ইচ্ছাশক্তির বিরুদ্ধে
মাথা নত হয়ে যায় অহরহ '
সে ভুল করলেও ধরিয়ে দেবার অনীহা --
সূর্য ডোবে পুনরায় ভেসে ওঠার অপেক্ষায় -
আমি ডুবে গেলেই অন্ধকারে
কবিতার খাতা খুঁজে পাই প্রেম !





দ্বিস্বত্বাধিকারী -----------

অন্তুনিহিত কিছু রূপান্তরে আমি কাঠখড়
পুরুষ ;এবার নারীর মর্যাদায় খুঁজে দ্যাখো ।
স্মরণাতীত কাল ধরে গর্ভ ভ্রূণে প্রজ্ঞান এঁকেছেন মাতৃছবি , 

উপেক্ষিত পুরুষের মাতৃযোগ । শরীর সংস্থাপনে'ই পূর্ণতা
গহ্বরে'র কোষের , অথচ আমরা ---

স্ফীত স্তন ব্যাতিরেখে মা ; আমাকে অক্ষম করেছো সৃষ্টিতে
বলেই কি অনুভূতি শক্তিহীন আফিম আসক্ত ভ্যাপা সন্ধ্যা শুধু
আমার মনন ! যে বীজ খেলা করে জঠরের প্রান্তদেশ হতে
মাঝমাঠ তিনশত দিন , তুমি শারীরিক অনুভাবক
মানবিক আমার হৃদ ।

অধিকার জুড়ে নিয়মে পাওনা নাড়ীর যোগ আর কিছু ব্যথা সম্বলের
অণুক্ষণ স্মৃতি তোমার , আর মধ্যস্ততাকারি আমার ভূমিকা !
যুগান্তধরে'ই সর্বশক্তিমানকে ডেকে'ই সৃষ্টির মধুময়তায়
রাঙিয়েছিলাম পঞ্জিকার রতিকাল মাধুরী অন্বেষণে ;
সমপাপে সম ভোগী , বিরাজিত সৃষ্টি সাম্যদিশার পথপ্রদর্শক ,
আমাদের সৃষ্টি গৌরবান্নিত করেছো তুমি
অধিকারে মা হয়নি বটে হৃদয় জুড়ে মা'কেই পাবে ।

"" আমি যদি ভুল হই বাবা'রাই বলতে পারবেন সঠিক কথা ''










নবকেতন

কেননা বিপর্যয় ঘটে গেছে বৃষ্টিতে , সমগ্র রাত
নিঃশব্দে বিপ্লব কবিতার খাতা জুড়ে ; বহুত
ইন্ধন ছিল এখানে বিলুপ্তি হবার ! মর'লেই উৎসব

পার্থিব - অপার্থিব সাম্রাজ্যে সমূহ উৎসাহে ।
কিছু জন্ম যেন বেঁচে থাকে ভোগের ছন্দ তরান্বিত
করা অবধি , ফিরে যাবার সময় বোঝেন জন্মটা
বৃথায় গেল চলে ; নিজের জন্য কিচ্ছু করা হ'ল না
অবশেষে !

এখানে চেনাজানা এত মানুষ , পথ , গন্তব্য , ইচ্ছাধীন
অনিচ্ছাধীন সুখী থাকার প্ররোচনা শিকড়বাকড়ের
সংগৃহীত অস্তিত্ব আর অখণ্ড একটা জীবন নিয়ে --
ওহে জীবন তবুও বৃষ্টিহীন ফসল পোড়া কান্না !

এখানে বিপর্যয় ঘটে যাচ্ছে রোজ রাতে স্বেচ্ছায় অনিচ্ছায় ;
মন্ত্রগুপ্তি পাঠরত সমগ্র প্রয়াসে এবার নবজাগরণ ,
বিষাদের দিনপাত শেষে অপরূপ সুস্থতায় রেখে গিয়ে জীবন
মরণের ঘরে'ই সৃষ্টির নবকেতন -- বার বার এখনও -----










লাল টকটকে আঙুর ফলের দিকেই
যুগপৎ বিষাদ দৃষ্টি ; সকলের প্রদত্ত
অঙ্গুলি হেলনে'র বিরুদ্ধে স্থির থাকতে
পারলে -- তুমি বলিষ্ঠ মেয়ে !







মাকড়সা

আস্তিন গুঁটিয়ে কিছু মাকড়সা খেলা করে ;
আমি যাচ্ছি না
ছাড়ছিনা আমার অধিকার

সঙ্গম মনে ---
শরীর ক্ষয় মানে , আমি প্রতীক , প্রেমের ।

কিছু শিল্প জীবন দিয়ে আঁকতে হয় ,
শরীর নশ্বর
পা গিলছে যখন উত্তেজনায় কাঁপছে শরীর , এবার
ধিরে ধিরে শরীর , এবার
ভুলে যাবে জন্ম , মৃত্যু ,
আমি প্রেমিক ।

যখন স্থির পৃথিবী
দুই চারটে ডানা পায়ের টুকরো ছড়ানো ছিটানো
তখন মনে পড়ে
কে তোমার সোহাগী ?
অমৃতলোকে
ভিক্ষামাগে দ্বিতীয় জীবনের প্রত্যাশায় ।
আবার ক্ষয় , আবার নির্বাণ , আবার মৃত্যু , আবার প্রেম ,
তবুও
ক্ষয়ে ক্ষয়ে
উঠে দাঁড়াবে দ্বিতীয় জীবনে , ক্ষয় ভালোবেসে !










যদি ছেড়ে যেতে চাই
পথ করে দিও বন্ধু ;
যদি ভাসতে চাই , সাঁতার শিখিয়ে দিও বন্ধু ।
যদি মরতে চাই---
ফিরবার ঠিকানায় তুমিই থেকো বন্ধু !





উপভোগ

আমাকে আগলে রেখো আরো কিছু সময় তোমার
যুগল স্তনবৃন্তে ,
অমৃতের স্বাদ লেগে থাকা ধূলিময় গেরুরা গোধূলি

শুধু স্বপ্ন নয়
আমার আরো একটা আস্ত সত্ত্বা,আগলে রাখো
বিনুনি নদী চুলে ;

যে দিকেই ঢাকের বাদ্য বাজনা শুনি , সে তো শুধু শব্দ নয় ,
রণডঙ্কা , ১৮ অক্ষহনি হ'য় বাহিনী আসছে ধেয়ে
১৯ দিবস কুরুক্ষেত্র সমরে আমাকে করেছে সেনাপতি...
আমি তোমার নাভিদেশ স্পর্শ করবো এখন
মেপে নিয়ে শরীরের উষ্ণতা , কোষে কোষে জিনের আবেদন নিয়ে বলবো
আমি দুর্যোধন বংশধর
দ্বৈপায়ন হ্রদে লুকিয়ে থাকবো না আজীবন , আয় তুই , দাড়িয়ে আছি
মাথা সোজা করে
বধ কর আমাকে...... দাড়িয়ে আছি মৃত্যু কামনায় !

মৃত্যু আরো দুদণ্ড সময় ভিক্ষা মাগি...
প্রিয়তমা , এই কুরুক্ষেত্রে জয় পরাজয় সব মিথ্যা অভিনয়
রোজ মরছি মনে মনে প্রেমে অপ্রেমে , দন্দে ধন্দে
রোজ মরে মননে মননে স্বপনে জাগরণে" দ্রোণে "
নেই কোন আক্ষেপ আর কোন মৃত্যু তে ,
শুধু শেষ অনুনয়ে তোমার জরায়ু গর্ভে নব দূর্বাদল শ্যাম রেখে
যেতে পারলে মৃত্যু টা উপভোগ করা যেতো বেশ !










স্নান ঘর

নির্দ্বিধায় বলছি লুণ্ঠিত হতে এসেছি , তোমার স্নানঘরে !
অপারগতার সমস্ত বিভ্রাম কাটিয়ে স্নান কল্পে
এবার নিঃস্ব , বেলা ফিরেছে ঘরে আর অবগাহনের

এই সমাপ্তিপর্বে তালুতে রাখবো এবার ভবিষ্যৎ !

প্রত্যহিক তোমার দুঃসাহসী দৃষ্টিক্ষেপণে এক একটা অঙ্গ হনন ,
কিম্বা হৃদয়ের লাল কার্পেট পেতে যার প্রতীক্ষায়
তার ফিরবার ইচ্ছাশক্তি থাক তোমার মনে ,
শালিকের ডানায় যে ক্ষণিকের বৃষ্টি'র অনুতাপ লাগে ---
এসো আমারাও সর্বশেষ অনুতাপে দগ্ধ হই

বলবো না আমি বিদেহী আত্মার অনুরোধে হৃদয় কেটেছি ,
ছিন্ন করেছি সমগ্র অস্তিত্বের নেশাতুর বন্ধন এই মাঘে ,
আমি তো সেই পুরুষ , যার কামনার রঙ্গে রাঙ্গা হয় বনস্পতি
বৃক্ষের ফল গড়ে ওঠে ফসলের সুমহান ঐতিহ্য ;
আর দ্যাখো , আমার অক্ষত বুকে সমস্ত নদীর ঢেউ
ভুলে যায় তারা জীবনের গতিপথ , ভালোবেসে ;

শোন প্রথম অনুরাগ , আমি প্রসিদ্ধ হয়েছি অনন্তে --
রাত্রির বুকে লেখা আছে আমার চর পরিচয় ;
জীবনের বহিঃমূলে যতখানি সম্মুখের ঘরোয়া পরিচয়ে পরিচিত
আর চেয়ে ঢের বেশী লুক্কায়িত চাঁদের গহ্বরে'র মত
বস্তুত দৃশ্যিত বাস্তবে এক স্বপ্ন সাগর ;

ভুলে গেছো তুমি , সমস্ত সমুদ্র পথ ঈশানের মেঘ রক্তিম
হলে পরে - আমি পুরুষ ; বাহুবলী অধিকারে নারীয়ে পেয়েছি যতো
তার থেকেও অনেক বেশিবার বিলীন হয়েছে সৃষ্টি বুকে
ভালোবেসে - নিজেকে পুড়াতে ভালবেসে !
আজ নির্দ্বিধায় বলছি -- পৃথিবীর সমস্ত লোকাচারে আমার অনন্ত রূপ
যে পেয়েছে সে ভুলেছে সব অধিকার ---
সপাট বন্ধ করে দ্যাখো স্নান ঘরের দরজা , -- দ্যাখো দ্যাখ ---
তুমি সত্যি বল




বৃষ্টি'তে শুয়ে আছি ফসলের বুকে

এখনও বুঝিনি কারে ঠিক ভালোবাসা বলে
আর্ত ঠোঁটের কোন অভিমুখে ভালোবাসা ঝরে পরে ;
চিৎ হয়ে শুয়ে থেকে দিগম্বরী ধানের গুচ্ছের মাঝে

কত হাওয়া চুপিসারে কঙ্কণ বাঁজায় মনে ;

মুহূর্তরা এসে হঠাৎ বাড়িয়ে দিয়েছে কিছু নাম ,
আমিও চোখ বন্ধ করে ফেলি কান পেতে পাতালের
শ্বাস শুনি ; মনে রাখিনি ছেড়া চপ্পলের গতিপথ ,
মনেও রাখিনি কোন দাবীদাওয়া , তবুও র্মোহি
অহংকারে জেগে ওঠে পিছুটান !

সেবার বৃষ্টি আসে মাঠকে মাঠ আমনের ক্ষেত জুড়ে ,
সমস্ত দুঃস্মৃতিকে ভুলে বৃষ্টিতে ফসলের সংসার --
বুঝিনি এখনও কাকে বৃষ্টি বলে কাকে ভালোবাসা







ব্যক্তিগত

আমাকে আস্কারা দিও না তুমি ---
সব জটিল সমীকরণ -- তারপর মনস্তাপ
পুনশ্চঃ উদ্গিরন সঙ্ঘবদ্ধ ভয়ঙ্কর অতীত 

খণ্ডকৃত দুপুর নূপুর ঝঙ্কার !
তার চেয়ে তস্কর থাকি , তস্কর থাকি লাবণ্যর --
সুমহান রাত্রের ,
নিষিদ্ধ হয়ে গেলেও আমার কাছে আমি
সেই চোখ , সেই চোখ খুলে রেখো তুমি , আমিও
সর্ষে পোকা হয়ে যদি না কাঁদিয়ে দিতে পারি ---
খুলে রেখো চোখ তুমি !

অসম্ভব জ্বলে গেছে ,
জ্বলে গেছে অস্থি মজ্জা সুসম্নাকাণ্ডময় ভাতের থালা ,
আর এগিয় না ;
নাছোড়বান্দা জেদ ছাড়ো , অশরীরীর পূর্বজন্ম নেই -
মৃত্যু নেই ,
শুধুই পাণ্ডুলিপি'তে
লিপিবদ্ধ আমিত্ব তুমিত্ব আর ব্যক্তিগত সরল স্বীকারোক্তি ;

আর কোন প্রেমের বৃষ্টি নয় আকাশে ---
এখন শুধু জোঁকের মত রক্ত চুষে নাও ব্যক্তিগত
























































































kichumichu



বিধিভঙ্গ

আর তো বিশেষ কিছু জানার নেই , এবার দগ্ধ ,
অনন্ত হাহাকার --- মেঘ বৃষ্টি ছায়া আগুনে
দগ্ধতা'র বারোমাস , আর তো কিছুই জানি না ;


কবেই অন্ধের যষ্টি'তে ফেলে এসেছি সেই পথ
হরিণী পায়ের ; লক্ষ কোটি বৎসর ঘাস
পুড়েছে আগুনে'র রসে ; এখন দৃষ্টিহীন ,
আহাঃ এবার বর্ণান্ধ ---
ভুলে গেলাম তার সামন্ত্রতান্ত্রিক চোখ !

কিছুই চাইনি আমি ; শুধু দেখেছি তার সুসংহত অভিঘাত
কবিতায় , দ্বিধাবিভক্ত আত্ম সংযমে ক্ষয়িত যুবক বয়স --
সমস্ত নিষিদ্ধতায়
প্রজ্ঞ্যান মুখের ভীরেও
গোপন তরবারি'র ধারালো অগ্রে প্রাচীন পুঁথি
খণ্ড- বিখণ্ডিত , রহস্য পাতা ভেঙ্গে পরছে মলমাসের
শুভ - অশুভর প্রাচীর !
সমস্ত অহংকার নিয়ে উবে যায় প্রাচীনতা লক্ষণরেখা
হাসি ঝলকে ওঠে
জ্বলন্ত মদন , মদন -- জ্বলে না অঙ্গ --
দূরে নিভছে সৃষ্টি আলো আঁধার ঘুম নেই , ঘুম নেই --
কোন সংস্রবে নেই মুক্তি ---- ভিখারি , আমিও সেও !










বিস্মিত জগৎ

নীল নীল ছবি উড়ছে অশুদ্ধ রক্ত লজ্জিত বেড কভার -
বুক ছুঁয়ে নিম্নে যন্ত্রণা ফুড়ুৎ পাখি এই আসে এই ফেরে
অন্তঃমূলে অগ্রিম হিসাব 

বিকল দিক নির্ণয় যন্ত্র আকাশ বিদ্যা ;

অনন্ত মৃত্যুর মত নিঃশব্দে ঘরোয়া বিপ্লব সঙ্গীবিহীন ষোলকলা
রাত , টুকরো খসে পরে শরীরে আগুনের ,
দাউ দাউ , জ্বলন ,
সর্ষে ফুল -- মৌমাছি -- মধু ---
খোলা চুলে উড়ছে সন্ধি প্রস্তাবের বাতাস ;

নির্বাক দর্শক
ঢ্যামনা চাঁদ গলে যাচ্ছে মোম জঙ্ঘার পূর্ণতা মাষে
অবাক একটা জগৎ
প্রথম মুখে ভাত তুলেছে শিশু ;

জব্বর বিশৃংখল খেলা উন্মেচিত ভবিষ্যৎ
অচেনা গন্ধ অন্বেষণ চুপি চুপি একা নির্জন নির্মল ;

প্রশান্তি পরিপূর্ণতা আবিষ্কৃত জগৎ যুগের অবসান










নিয়ম

তারপর আলোক পাতের দিকে মুখ রেখে বসি ,
যেমন করে আমার তৃতীয় বা চতুর্থ পূর্বপুরুষ অথবা আমার গ্রাম
এখনো বসে আছে ঠায় , 

এখনো বসে আছে স্থির প্রতীক্ষিত আলোর দিশায় ।
এখনো ঢের কিছু জন্ম
এখনো ঢের কিছু মৃত্যু অন্ধকারের পথে ।

আমাকে মনে পরে প্রপিতামহ , তৎ প্রপিতামহ ?
এখানকার জল হাওয়ায় বেড়েওঠা প্রতিটুকরো সময়ের স্মৃতি
তোমাকে এখনো কাঁদায় ?
এখনো কি লবন জলে স্নান অথবা সমাধি ?
এখনো কি আমার জিহ্বায় তোমার স্বাদগ্রন্থি ?

প্রপিতামহ তৎ প্রপিতামহ ,
মনে পরে আমাকে ? চেন কি আমায় ? তোমারতো চিনবার কথাছিল আমাকে
অথবা তোমাকে চিনবার আমার...
তোমাকে দেখিনি আমি
যেমন দেখিনি কতকিছু আমি......
গল্পেও খুঁজে পায়নি তোমার আদলে আমার মুখ
খুঁজে পায়নি তোমার পেশীবহুল শরীরে সঙ্গে আমার শরীরের মিল......
তবু

শ্রুতি গল্পে শুনেছি
তুমি পাগলছিলে !
তোমার মধ্যে আরো একটা আস্ত তুমি , ছিলে নাকি তুমি !

প্রপিতামহ তৎ প্রপিতামহ ,
তুমি পাগলছিলে কেন ? তোমার গোলাভরা ধান ছিল , হাঁসের ডিম ছিল
বাঁধানো পুকুরছিল , সুন্দরী নারী ছিল !
বল তুমি আজ ? তবে কি প্রেম বিবাহ ভালোবাসা্‌ , নারী ,
জীবনের সবটুকু নয় ?

প্রপিতামহ তৎ প্রপিতামহ !
রক্তের গুণ তবে সংক্রমনিত ব্যাধি ?
যা আমার পিতামহের ছিল না
যা আমার আমার পিতার ছিল না......
তা আমার মাঝখানে বিদ্যমান .........
নিয়মের রাজত্বে নিয়ম বুঝেনেন তবে কি হিসেবনিকেশ নিয়মেই !






















পিতা

আমি পিতা ......

বসন্ত হাওয়ায় পিদিমের আগুন নিয়ে যায় , নাভি উষ্ণতায়

ভগবানও মোম , দাহ্য পাশাপাশি , নিবিড় ,
নেই বিষাদের জন্ম ,
এবার পিতা হবার পালা

আমি পিতা

ঝাপট খেতে খেতে ডানা উল্টে সময়ের এক সালিখ বা চড়ুই ,
উঠোনময় সিদ্ধ ধান ,
ফাগুণের মনকাড়া বেলা বাড়ে ,
চাপে চাপে স্তন ফুলে ফেঁপে আস্ত পাহাড়
অভুক্ত রেখো না খোকা
আমাকে দুধ দাও মা জননী ।

আমি পিতা ......

উষ্ণ উপত্যকায় ভ্যাপা চাঁদ নিয়ে রাত নামে নিয়মের যন্ত্রণায় ,
কৃষ্ণসাগর, তোমার তামাম চোখে জলবায়ু সন্ধিতে প্রস্তুত ,
খুলে দিই একাদশীর জানালা
একঝাক উত্তরে হাওয়া... শীত শীত ভাব
শিশু ওঠে কেঁদে
তোমার বুক থেকে আমার ঠোঁট সরে যায় ...
হেসে ওঠে নিয়ম ।

আমি পিতা ......

দূরত্বের প্রাচীরে আমি তুমি , মাঝখানে রঙ্গিন স্বপ্নের স্থান ,
সংগোপন কথা , এক দিন নির্দ্বিধায় দুজনে ,
এখন লজ্জায় , ঘর ভরে যায় আলোয় , চুপ করো ,
জেগে আছে দ্বিতীয় ভগবান ,
নির্বিষ হয়ে যায় রাত , হাত নেমে আসে যার যার মাথায় ,
ঘুম ভাঙ্গে
আমিও তবে কি হয়েগেছি ভগবান !













রহস্য

ঘুম যাযাবর হ'লে গ্রহন্তরে কিছু কাঠ পোড়ে ,
মহিমান্বিত ঐতিহ্য ভেঙ্গে পরে মানবের ।
জীবন , দেখেছো কিনা কোন সুন্দর অভ্রান্তের

ছবি , যে প্রেম চেনাবে !
আবৃত রহস্যের মায়া জালে নট-নর্তকী ভোগে
তীব্র জৈবিক উন্মাদনা , নিঃশেষিত প্রাণ-বায়ু
যেবার স্বাধীন , প্রিয় কিছু জলে, দেওয়ালে ফুলের
মালায় দৃশ্য সুখ কিছুদিন !

কালান্তরি ব্যাধি আমি সর্বস্যে গভীর অঙ্গে ,
প্রতি মুহূর্তে ভেঙ্গে পরে স্বর্গের সিঁড়ি, যেমন
ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে সেই বন্দীর মত
চোখ বন্দ করে থাকে মৃত্যু ফিরে যাবে বলে !

হাজার রহস্যের মোড়কে একটা জীবন
শ্মশানে জন্ম আছে রহস্যে নেই অবশেষে













পথ

বহুদিন যাবৎ আত্মসাৎ করে প্রজাপতি রঙ
ভেবেছিল বাদবাকি রঙ সব ফ্যাঁকাসে ; আয়েজনে
মাতোয়ারা মচ্ছবেসোম রসে 

ভোজনে রসিক নাগর । এদিকে আশ্চর্য এক ভ্রূণের
রসে মজেছে জঠর
তারা ভাবেছিল শুদ্ধ করে নেবো বিজ্ঞানে বাঞ্ছিত-অবাঞ্ছিতের
লালন দায়ভার ।

এতদিন যাবৎ ফুলের মত যা কিছু সত্য অভ্রান্ত অনুরণনের অরুণ জেগেছিল ;
পাপড়ি ভাঁজে অফুরান যৌন সংক্রমণ , আর নিষাদের মন জুড়ে
খানিক খানিক শরীর , সব সরীসৃপ গমনে
প্রতিরাতে ভুলেছে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য !

আজ প্রতি আঁধার রাতে মাঠে জ্বালিয়ে ন্যাড়া ; বিধর্মী যতো বক ধার্মিক
সেঁকে নিয়ে হাত-পা
খুঁজে নিক খামারের ঠিকানা ; ওরা জানে কি
কত পথ পাড়ি দিতে আছে বাকি ?



















তথাগত

অনিবার্য এক অন্তঃমুখী নিত্য উৎপাদিত চাহিদা'য়
শান্তি নাই , ফ্রেমে লটকে আছে সন্তান টিউশন
ফিস স্ত্রী অলঙ্কারের গন্ধ ; চড়া রোদ,নিরুৎসাহি

সাংসারিক বৃষ্টি মুছে দিচ্ছে মুখচ্ছবি গত বিগত
সত্যাচার ! মুখে বলিরেখা উজ্জ্বল , কাটাকুটি ,
জটিল জ্যামিতি বিন্যাসে আবদ্ধ সময়ের জন্ম ঘর ।

সমুজ্জ্বল বৃক্ষেরা অনন্তবার শীতলতার আহ্বান ।
লাজুক মুখে এক সাম্য যুবক তার নিচে , গুটিকয়
রাখাল বালক শিখছেন পশু প্রেম ---
আমিত্ব বর্জিত হ'বার ইহকালিন আনন্দধারায়
ভেসে থাকার সুপ্তকথা !

ঐ যুবক বৃক্ষের নিচে বিলীন হয়ে গেল একদিন ---

তথাগত ইহকালের আগুন দিয়ে গেলেন প্রত্যেক মনে ---
ভুতকাল নয় , একালের পরমপ্রাপ্তি , বিশ্বাসে










ঈশ্বর অবিশ্বাসী দামাল

অনেকবার সামনে পতন দেখেও মাথা নোয়াইনি
কোন কৃত্রিম মূর্তির পাদদেশে ; সবুজ সংকেত
পেয়ে যারা সাঁ সাঁ বেগে চলে গেছে আমার পাশ দিয়ে ,

তারা কেউ আমার বন্ধু ছিল কেউবা বন্ধুর বন্ধু কিম্বা
পরিচিতি অর্ধপরিচিত অথবা সুদখোর বাপের সন্তান ,
একে একে সব্বাই গাড়িতে উঠে গেছে , যেখানে আমিও
চড়তে পারতাম , আয়েশ করে বসে বলতে পারতাম
"বন্ধুর সাথে শেয়ার করে সিগারেট খাওয়ায় মজাই আলাদা !"

বারবার "মিস" করি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যবস্তু , ইচ্ছাধীন নয়
যে সব পার্থিব জগতের ইচ্ছা নামক বস্তু , সেখানে যখন
পৌঁছায় যেন "হরির লুটের" শেষ হরি আমি , সব
উপাদেয় আহার সামগ্রী উবে গেছে অন্য মুখে ! মা তবুও
উৎসাহ দিয়ে যান " লেগে থাক , লেগে থাক "

আর আমিও স্বউৎসাহে প্রতিবার এগিয়ে যায় এক মায়াবী
জাদু মোহে , অবশ্য ফিরে আসতেই হ'য় কুয়াশা মোড়কে
চুপিসারে নিস্তব্ধতায় ! তখনি দেখি শিশির বিন্ধু জমেছে শরীরে ,
হাত দিয়ে দেখি শিশির নয় সমগ্র শরীর থেকে লাভা বেরুচ্ছে
আর অসহ্য এক যন্ত্রণায় নিবদ্ধ থেকে দেখি -------
অন্ধকার ভেঙ্গে স্বলজ্জিত চোখে উঠে আসছে সূর্য -- , অথচ
আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না !

পিতৃদেব বুঝে গেছে "অকাল কুস্মান্দু " পয়দা ভুল বশতঃ গ্রহের ফেরে !
আমি ও ঐ চোখের দিয়ে তাকাই না --- আঁধার নামে একসময় ,
আমি মা'কে খুঁজি শুধু ,
আমার মৃত্যু নেই ক্ষয় নেই ধ্বংস নেই লেখা চিত্রগুপ্তের খাতায় --
আমি মা'য়ের স্তন খুঁজি , আমাকে পুনরায় অমৃত দাও মা ---













রোগশয্যা

আর খানিকক্ষণ আলো রেখো জ্বালিয়ে ,
স্যালাইন বোতলে বিষ ঢুকিয়ে শেষ লড়াই ,
মৃত্যুতে নয় , যত ভয় ছিল জন্মে ; অষ্টাদশ দিবস

নামলো বোধহয় , সঞ্জয় আমি কিছু শুনছি না কেন ?
সচারচর নিষ্কর জমি নারী'কে ছিনিয়ে নিতে হয়
মরণের আগে , আর তর্জনীতে নাচিয়ে দিনকাল
অস্থাবর বাড়িয়ে কেবিনে দ্যাখো দিব্যি শীত ঘুমের
প্রস্তুতি ; ঘুম আসে ? ঘুম আসে না ?

মরণ

অহেতুক নয় বংশী , কারন আছে বলিষ্ঠ জোরালো এবার ;
অনেক বসন্তে ফলিয়ে ফসল সুখী নই ?
প্রেমে হারজিত মাপিনি বেলুনে তুলেছি নিজেকে অহরহ ,
পাইগণ্ডা ছারিনি শরিকে , সমগ্র মাঠে আমার ধর্মের
ফসল ফলিয়ে ক্লান্ত আমি ?
এখনো অনেক বাকি আছে , বীজতলা , জল সিঞ্চন ,
অগ্রহায়ণে ধানের গন্ধ নবান্নের সে সব রাতে ...
এক পাগলী
আমাকে পাগল করার আগেই .........

জন্ম

ভয় নেই আকাশে ভেসে থেকে ...
কতবার পৃথিবী ঘুরে গেল আমাকে পেছনে রেখে ...
বিশ্বাস ছিল জলের কাছে মাটির কাছে স্নেহ চুম্বনে'র কাছে
ফিরে আসে প্রিয়'রা এভাবেই ,
এক রোগ্‌ এক মৃত্যু এক হাহাকারে
ভুলেছি জন্ম
ভুলেছি মৃত্যু
ভুলেছি দেশ কাল পিতৃ পরিচয় ...
যত ক্ষেদ ক্ষোভ সন্তান চুম্বন স্বাদ ঠোটে নিয়ে
খোলস বদলে'র খেলা ----










ইদানীং কিছু অদম্য ইচ্ছাশক্তির বিরুদ্ধে
মাথা নত হয়ে যায় অহরহ '
সে ভুল করলেও ধরিয়ে দেবার অনীহা --
সূর্য ডোবে পুনরায় ভেসে ওঠার অপেক্ষায় -
আমি ডুবে গেলেই অন্ধকারে
কবিতার খাতা খুঁজে পাই প্রেম !









দ্বিস্বত্বাধিকারী -----------

অন্তুনিহিত কিছু রূপান্তরে আমি কাঠখড়
পুরুষ ;এবার নারীর মর্যাদায় খুঁজে দ্যাখো ।
স্মরণাতীত কাল ধরে গর্ভ ভ্রূণে প্রজ্ঞান এঁকেছেন মাতৃছবি , 

উপেক্ষিত পুরুষের মাতৃযোগ । শরীর সংস্থাপনে'ই পূর্ণতা
গহ্বরে'র কোষের , অথচ আমরা ---

স্ফীত স্তন ব্যাতিরেখে মা ; আমাকে অক্ষম করেছো সৃষ্টিতে
বলেই কি অনুভূতি শক্তিহীন আফিম আসক্ত ভ্যাপা সন্ধ্যা শুধু
আমার মনন ! যে বীজ খেলা করে জঠরের প্রান্তদেশ হতে
মাঝমাঠ তিনশত দিন , তুমি শারীরিক অনুভাবক
মানবিক আমার হৃদ ।

অধিকার জুড়ে নিয়মে পাওনা নাড়ীর যোগ আর কিছু ব্যথা সম্বলের
অণুক্ষণ স্মৃতি তোমার , আর মধ্যস্ততাকারি আমার ভূমিকা !
যুগান্তধরে'ই সর্বশক্তিমানকে ডেকে'ই সৃষ্টির মধুময়তায়
রাঙিয়েছিলাম পঞ্জিকার রতিকাল মাধুরী অন্বেষণে ;
সমপাপে সম ভোগী , বিরাজিত সৃষ্টি সাম্যদিশার পথপ্রদর্শক ,
আমাদের সৃষ্টি গৌরবান্নিত করেছো তুমি
অধিকারে মা হয়নি বটে হৃদয় জুড়ে মা'কেই পাবে ।

"" আমি যদি ভুল হই বাবা'রাই বলতে পারবেন সঠিক কথা ''













নবকেতন

কেননা বিপর্যয় ঘটে গেছে বৃষ্টিতে , সমগ্র রাত
নিঃশব্দে বিপ্লব কবিতার খাতা জুড়ে ; বহুত
ইন্ধন ছিল এখানে বিলুপ্তি হবার ! মর'লেই উৎসব

পার্থিব - অপার্থিব সাম্রাজ্যে সমূহ উৎসাহে ।
কিছু জন্ম যেন বেঁচে থাকে ভোগের ছন্দ তরান্বিত
করা অবধি , ফিরে যাবার সময় বোঝেন জন্মটা
বৃথায় গেল চলে ; নিজের জন্য কিচ্ছু করা হ'ল না
অবশেষে !

এখানে চেনাজানা এত মানুষ , পথ , গন্তব্য , ইচ্ছাধীন
অনিচ্ছাধীন সুখী থাকার প্ররোচনা শিকড়বাকড়ের
সংগৃহীত অস্তিত্ব আর অখণ্ড একটা জীবন নিয়ে --
ওহে জীবন তবুও বৃষ্টিহীন ফসল পোড়া কান্না !

এখানে বিপর্যয় ঘটে যাচ্ছে রোজ রাতে স্বেচ্ছায় অনিচ্ছায় ;
মন্ত্রগুপ্তি পাঠরত সমগ্র প্রয়াসে এবার নবজাগরণ ,
বিষাদের দিনপাত শেষে অপরূপ সুস্থতায় রেখে গিয়ে জীবন
মরণের ঘরে'ই সৃষ্টির নবকেতন -- বার বার এখনও -----






















লাল টকটকে আঙুর ফলের দিকেই
যুগপৎ বিষাদ দৃষ্টি ; সকলের প্রদত্ত
অঙ্গুলি হেলনে'র বিরুদ্ধে স্থির থাকতে
পারলে -- তুমি বলিষ্ঠ মেয়ে !









স্নান ঘর

নির্দ্বিধায় বলছি লুণ্ঠিত হতে এসেছি , তোমার স্নানঘরে !
অপারগতার সমস্ত বিভ্রাম কাটিয়ে স্নান কল্পে
এবার নিঃস্ব , বেলা ফিরেছে ঘরে আর অবগাহনের

এই সমাপ্তিপর্বে তালুতে রাখবো এবার ভবিষ্যৎ !

প্রত্যহিক তোমার দুঃসাহসী দৃষ্টিক্ষেপণে এক একটা অঙ্গ হনন ,
কিম্বা হৃদয়ের লাল কার্পেট পেতে যার প্রতীক্ষায়
তার ফিরবার ইচ্ছাশক্তি থাক তোমার মনে ,
শালিকের ডানায় যে ক্ষণিকের বৃষ্টি'র অনুতাপ লাগে ---
এসো আমারাও সর্বশেষ অনুতাপে দগ্ধ হই

বলবো না আমি বিদেহী আত্মার অনুরোধে হৃদয় কেটেছি ,
ছিন্ন করেছি সমগ্র অস্তিত্বের নেশাতুর বন্ধন এই মাঘে ,
আমি তো সেই পুরুষ , যার কামনার রঙ্গে রাঙ্গা হয় বনস্পতি
বৃক্ষের ফল গড়ে ওঠে ফসলের সুমহান ঐতিহ্য ;
আর দ্যাখো , আমার অক্ষত বুকে সমস্ত নদীর ঢেউ
ভুলে যায় তারা জীবনের গতিপথ , ভালোবেসে ;

শোন প্রথম অনুরাগ , আমি প্রসিদ্ধ হয়েছি অনন্তে --
রাত্রির বুকে লেখা আছে আমার চর পরিচয় ;
জীবনের বহিঃমূলে যতখানি সম্মুখের ঘরোয়া পরিচয়ে পরিচিত
আর চেয়ে ঢের বেশী লুক্কায়িত চাঁদের গহ্বরে'র মত
বস্তুত দৃশ্যিত বাস্তবে এক স্বপ্ন সাগর ;

ভুলে গেছো তুমি , সমস্ত সমুদ্র পথ ঈশানের মেঘ রক্তিম
হলে পরে - আমি পুরুষ ; বাহুবলী অধিকারে নারীয়ে পেয়েছি যতো
তার থেকেও অনেক বেশিবার বিলীন হয়েছে সৃষ্টি বুকে
ভালোবেসে - নিজেকে পুড়াতে ভালবেসে !
আজ নির্দ্বিধায় বলছি -- পৃথিবীর সমস্ত লোকাচারে আমার অনন্ত রূপ
যে পেয়েছে সে ভুলেছে সব অধিকার ---
সপাট বন্ধ করে দ্যাখো স্নান ঘরের দরজা , -- দ্যাখো দ্যাখ ---
তুমি সত্যি বল
তোমার সিক্ত অঙ্গে আমার অঙ্গের অনুভব -- সত্যি বল আজ !
















বৃষ্টি'তে শুয়ে আছি ফসলের বুকে

এখনও বুঝিনি কারে ঠিক ভালোবাসা বলে
আর্ত ঠোঁটের কোন অভিমুখে ভালোবাসা ঝরে পরে ;
চিৎ হয়ে শুয়ে থেকে দিগম্বরী ধানের গুচ্ছের মাঝে

কত হাওয়া চুপিসারে কঙ্কণ বাঁজায় মনে ;

মুহূর্তরা এসে হঠাৎ বাড়িয়ে দিয়েছে কিছু নাম ,
আমিও চোখ বন্ধ করে ফেলি কান পেতে পাতালের
শ্বাস শুনি ; মনে রাখিনি ছেড়া চপ্পলের গতিপথ ,
মনেও রাখিনি কোন দাবীদাওয়া , তবুও র্মোহি
অহংকারে জেগে ওঠে পিছুটান !

সেবার বৃষ্টি আসে মাঠকে মাঠ আমনের ক্ষেত জুড়ে ,
সমস্ত দুঃস্মৃতিকে ভুলে বৃষ্টিতে ফসলের সংসার --
বুঝিনি এখনও কাকে বৃষ্টি বলে কাকে ভালোবাসা
















ব্যক্তিগত

আমাকে আস্কারা দিও না তুমি ---
সব জটিল সমীকরণ -- তারপর মনস্তাপ
পুনশ্চঃ উদ্গিরন সঙ্ঘবদ্ধ ভয়ঙ্কর অতীত 

খণ্ডকৃত দুপুর নূপুর ঝঙ্কার !
তার চেয়ে তস্কর থাকি , তস্কর থাকি লাবণ্যর --
সুমহান রাত্রের ,
নিষিদ্ধ হয়ে গেলেও আমার কাছে আমি
সেই চোখ , সেই চোখ খুলে রেখো তুমি , আমিও
সর্ষে পোকা হয়ে যদি না কাঁদিয়ে দিতে পারি ---
খুলে রেখো চোখ তুমি !

অসম্ভব জ্বলে গেছে ,
জ্বলে গেছে অস্থি মজ্জা সুসম্নাকাণ্ডময় ভাতের থালা ,
আর এগিয় না ;
নাছোড়বান্দা জেদ ছাড়ো , অশরীরীর পূর্বজন্ম নেই -
মৃত্যু নেই ,
শুধুই পাণ্ডুলিপি'তে
লিপিবদ্ধ আমিত্ব তুমিত্ব আর ব্যক্তিগত সরল স্বীকারোক্তি ;

আর কোন প্রেমের বৃষ্টি নয় আকাশে ---
এখন শুধু জোঁকের মত রক্ত চুষে নাও ব্যক্তিগত






















এখানে বৃষ্টি নেমেছিল

অশেষ বৃষ্টিতে ভিজে গ্যাছে রাজপথ গুমটি চিলেকোঠা ,
হাঁসের ডানায় প্রতিফলিত রোদের মত এবার সরেছে
বৃষ্টি, অতিসত্বর । আমিও নাছোড় এক , উলঙ্গ শিশুর

মত কেঁদে কেঁদে বলি দুধ দাও , দূরত্ব বারা ছায়ায় মুখ
খুঁজি পরিচিতের , আর কুড়োতে থাকি ধুলো বালি --
যদি এই পথে আলস্যে ভেঙ্গে উঠে আসে কোন পরী ---
তাকে আমি চিনি , চিনতাম যখনি জখম হৃদয় !

গভীর কোন তৃষ্ণা নয় - কুকুরের অভ্যাস বশতঃ লালা
ঝরানোর মত এক সর্বভুক ক্ষুধা হতাশ করে দেয় , ক্লান্ত
করে দিলে অস্তিত্বের বন্ধন , মর্মছেঁড়া সেই একই ডাক ।
অথচ সম্মুখে শীতল জলের কুঁজো আর সেই বোকা কাকের
মত হা-পিত্যেস ---
আর সমস্ত বিমূঢ় চেতনার অন্তঃমূলে প্রসিদ্ধ সেই উপেক্ষা
অনন্তের যাত্রিকের মত সরাইখানার অপেক্ষায় !
















পরিনতি

অবশ্যম্ভাবী এক যুগ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যাবে
সমস্ত গাড়ি , নেই হুইচাল সতর্ক রেফারী ,
বৈপরীত্য নিয়ে তবুও কিছু জন্ম কারুর মার্জিত হস্তক্ষেপে

খুঁজে পাবে পথ , হাত বদল হয়ে যাবে জন্ম- মৃত্যু ।
অদ্ভুত খড়ি'র রসস্যঘেরা গোপনতায় লুকিয়ে আছে জীবন
ফাঁকি দেবে বলে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের উদ্ধত্য ;
তবুও পৌঁছে যায় সে সমগ্র নিজস্ব সম্পর্কের বেড়া'র বন্ধন
ছিন্ন করে অসম্ভব নিস্তব্ধতায় ।

সকল জীবন সূর্যের পথে স্থির থাকে গভীর আত্মানুসন্ধানে ,
মারীচের অনুকল্পে এসে দাঁড়ায় সময়ের দাবী , তখন
বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণের বোর্ড পোরে থাকে চৌকাঠের
ওপাশে - এপাশে খোলা হাওয়া রঙ্গমঞ্চ
রঙ্গিন রাত -- রাত পরীদের সম্মোহন ! এবার

দাঁড়িয়ে আছে লাইনে , আগুন্তি আগুনের ফুলকি , আকাশে
কখনও মানুষ পোড়া গন্ধ -- কখনও অপরিচিত পশুর !







দশটি বছর

বাবা , তুমি যাবার প'রে পৃথিবী দশবার
সূর্যের পেছনে ঘুরেছে , দশবার শ্রাবণ এসে
করেছে মাতম , দু'ইবার এর ফাঁকে রাজা 

বদলেছি আমরা --- কিন্তু
তোমাকে জিজ্ঞাস করলেই হয়তো বলবে
" এই তো সেদিনের কথা , মা "

এর ফাঁকে মশকের কতশত জন্ম গেছে
মংলি পাঁচবার জন্ম দিয়েছে তিনটে বকনা দু'টো এঁড়ে ,
পাতা খসিয়ে গাছে'রাও ভুলেছে পূর্বজন্মের স্মৃতি
মা'য়ের শান্তিপুরী শাড়ি আলমারিতে গন্ধ নিচ্ছে
বড়'দির বড় ছেলেটা ক্লাস টু এ পড়ে, তোমার
ছবি দেখে নমস্কার শিখেছে
তোমাকে জিজ্ঞাস করলেই হয়তো বলবে
" হে হে হে - এ আর ক'দিনের , মা "

তুমি যাবার সময় যারা গর্ভে সৃষ্টির পূর্ণতার দিকে ছিল
তারা আজ এক একটা দস্যু ,
আমাদের ঘরের পাশে যে বিচিত্র রঙের বাগান ছিল
শুধু তারাই চাঁদের মত স্থির , বাড়েনি একটুও ,
আমাদের গ্রাম জেগেছে - কাঁদা নেই আর
মোবাইল টাওয়ারে পৃথিবী নিবদ্ধ করেছি
পার্কে পার্কে
খুলে গেছে শৈশব , জানি তোমাকে জিজ্ঞাস করলেই বলবে
" এই তো কটা দিন মাত্র , মা "

বাবা ,
তুমি যাবার পর আর তুমি নেই এখানে ,
তোমার অগোচরে সৃষ্টির সুমহান ঐতিহ্য ভয়ঙ্কর বদলে দিয়েছে
রুটি'র গড়ন ,
প্রত্যেকটা অনুক্ষণে বদলেছে পৃথিবীর মানচিত্র
তুমি বলবে " এই তো ক'দিন --- "
আমি জানি হারিয়েছি জীবনের দশটি বছর নয় একটা যুগ ----






















অফুরন্ত কান্না দিয়ে যায় কারা এখানে ?
গোলার স্বপ্ন দেখিয়ে কারা কেটে নিয়ে যায় মাঠের ধান ?
শ্মশান কাঠে লেগে থাকা জল কোন ভালোবাসার কথা বলে ?

একদিন নিভৃতে যোজন যোজন ব্যাপী শূন্যতা --

অসীম নৈশলোকে সৃষ্টির মার্জিত নব নব সংস্করণ , অথচ
জন্মের দৈন্যতায় জীবনের ক্রিয়াভূমি মৃত্যুর অসামাজিক
কার্যকলাপে দিনলিপি সত্যর !













নির্মল প্রত্যয়ে

জীবনের রংঘর বুঝিনি আমি , যে শিশু এসেছে আজ
কোমল আলোর স্বাদ ভালবেসে এক অপূর্ব মাতৃ মহিমায়
প্রেম নাম নিয়ে , তাকে ছেড়ে দিয়েছি এই আকাশ ! 

যৎসামান্য এই জীবনের উপর অনন্ত অখণ্ড আকাশ
ব্যাপ্তিতে নির্বাণ সুনীলে বিধৌত আত্মগরিমা , প্রখর এই
সংযমী বোধ আমাদের আকৃষ্ট করে, আর যুগ যুগ ধরে
প্রাগৈতিহাসিক পূর্বপুরুষ অগ্রসর হতে বলেন জীবনের দিকে !
সমস্ত চেষ্টার ফসল আমাদেরই আয়ত্তাধীন , অধরা জ্যোৎস্না
হোক সেও সিংহের মত কেশর নাড়াতে জানে রাতের বুকে ,
আমাদের উদগ্রীব করে দিলে প্রশান্ত এক প্রশস্তি হৃদয়
অবধি পথ করে দেয় , আমারও মুষ্টিবদ্ধ হাতে রাতের বিছানায়
ধরে রেখে সমস্ত অনন্ত প্রত্যাশা , আকাশেই কান পেতে রই !
এই সব অভিজ্ঞতা আমাদের রক্তে , প্রত্যয়ের মহা সংগ্রামী
জীবনে , সমস্ত ভাস্বর অনুভব সীমান্ত সৈনিকের মত জেগে
আছে হৃদয়ের সীমান্তে , অনুভব সর্বদা লবণাক্ত নয় !










এখনও কর্ণরা --------

নদী গর্ভে প্রথম উচ্চারিত হল আমার নাম ?
তুমি ভুল বলবে ? নদীই আমার মা !
আমার কোন গর্ভধারিণী মা নেই ,

অগুন্তি সন্তান খেয়ে ফেলেছেন সমস্ত মা ,
আমার কোন পিতা নেই ,
সমস্ত হিংস্র প্রস্তাবে থেকেছে তারই নিরব সম্মতি !
দিব্যজ্যোতি , তুমি বিশ্বাস করবে না , জানি ,
বল তুমি এই কি বাবা-মায়ের দায়বদ্ধতা ?
এই কি ঈশ্বরের নির্দেশিত পথের দিশা ?
আমি তো মরেই যেতাম
মরেই গিয়েছি কবে পরিচয়হীন জঞ্জালে !

নদী কূলে বসে জীবনের রহস্য খুঁজেছি আমি , নিষাদে'র
পরিচয়ে পরিচিত ঈশ্বর হোক অথবা তার সন্তান !
এখানেই শত পাগলের জন্ম
হাজার লক্ষ কোটি কীটপতঙ্গ পশু কিছু ধর্ষক
আত্মস্থ করে শরীরের যাদু---
যারা এলাম ঈশ্বরের ক্রিয়া ভূমি ছেড়ে
ভালোবেসে বেসে রক্ত ঘাম জঠরের উষ্ণতা'কে
তারা তো চলার পথে সঙ্কল্পে ছিল ধির স্থির স্থিরকল্প --
তাদের কি দোষ বল , বল দিব্যজ্যোতি ---

তুইও অনাথ দিব্যজ্যোতি , মুখোশ খুলে দ্যাখ --
দ্যাখ মুখোশ খুলে সম্পর্কের ফানুসে সময় , তোর
মৃত্যুতেও থামবে না ইউরেটাসের লিলা
রসালো ফল দেবে সুগন্ধি ফুল
তুই শুধু ডোমের পেট ভরাবি !

যে আমাকে পাঠাল , নির্বাক জন্ম দিল অনন্তবার , তাকে সেলাম !
যে আমাকে দিয়ে গেল এই উপাঙ্গ প্রদাহ , তাকে সেলাম !
যে আমার দেবীর মুখে বসিয়ে দিলো মায়ের মুখোশ , তাকে প্রনাম !
যে আমাকে স্বাধীনতা দিল , প্রত্যয়ে রেখে গেলো ঝরা অনুভব , তাকে নমস্কার !
হে আমার চিরাকাঙ্ক্ষিত সৃষ্ট্‌ যে শরীরে একটা মন দিয়ে গেল -- তাকে যুদ্ধের হুংকার !







অর্ধ মৃত

পারতো আলিঙ্গন করে নাও ভালোবাসা , অনেক
পুড়েছি ; রাজী আছি শিকার হতে , দেখে নিও শুধু
তৃণে যেন না থাকে পুরনো রক্ত !

একবার ধুলিজন্ম , এক পতন , এক স্রোতে
প্রবাহিত ধারা ধরে ভণ্ড জোঁক
ছারবেনা আধিকার সে ......
পারতো উষ্ণতা দিয়ে লুকিয়ে রেখো !

তবে তাই হোক ! আসমান জমিন ফারাক আমার সঙ্গে আমার
শরীর কতখানি শরীরের
মেধ চাবকে তুলে মাষ
দ্যাখ ভেতরে থরে থরে হেমলক রস ...
তাই
নিমজ্জিত জগত আমার , আমি নিজেই প্রজা নিজেই অধীশ্বর !

তবে ভুলিনি কেন এখনো ? তোমার ধাতু দিয়ে আমার ভবিষ্যৎ !
ওরে মরণ , শান্তি নাই ......
অর্ধ মৃত
জীবনের থেকে ভয়ংকর !







ঃঃঃঃঃঃঃ

মন , মন যখন শরীরের দিকে ঝোঁকে
চেতনা যখন অন্ধ দৃষ্টি'র মোহে
আকাশে যখন লেগে আছে অতৃপ্তির নেশা

আমি বুঝি রোগ হয়েছে তোমরা ভাবো প্রেম !

বাঁক নিয়েছে আমার শরীরের রেখা
অগ্রে পশ্চাৎ পরে রয়েছে ঐশ্বরিক অনুভব
রক্তে রঙ্গিন দিন এসেছে শরীর এবং মনে
বৃষ্টি গন্ধ স্নান ঘরে দিনে রাতে পায়ের চিহ্ন বাড়ে !

রুচিহীন সব একাকী নিঃস্বতা লাগে বড় ভালো
বুকের মাঝে সর্বক্ষণ হাজার জলের শব্দ
চুলের বাঁধন এতকাল খোলাই পরে ছিল
এখন করবী খোঁপা নিত্যসঙ্গী মনে মেয়ে মেয়ে গন্ধ !










সৃষ্টি করেন মানুষ কিছু মূর্তি
তাতে চক্ষুদান আর নিজের মননের দ্রবণ মিশলে
রূপ রস চিন্তন নিয়ে একটা মূর্তি হেসে ওঠেন
বলেন আমি "তোমাদের লোক "

নাস্তিক বলেন ঈশ্বর নেই , আমিও বলি নেই -- বলি ,
নাস্তিককে একবার মূর্তি গড়ে দ্যাখো

তুমিও জানো -- তোমার চেতনায়
এক টুকরো কাঠও ঈশ্বর হতে পারেন !







আমার কোন দেশ নেই
নেই জাতী ধর্ম ধর্মাগুণ ;
একটা খাতা একটা কলম পেলে
প্রতিটি অক্ষরে একটা দেশ গড়ি ,

এক পৃষ্ঠায় ধর্ম রাখি
দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় নিজে ধর্ম কথা তৈরি করি !





বৃষ্টির গান

আমাকে বাদ দিয়েও এমন বেহায়া বৃষ্টি হয়
তিলোত্তমায় , কাকে দ্যাখাও তুমি দেহপল্লবী,
স্নাত শরীর হতে বিন্ধু বিন্ধু জল,ওহে মুছে ফেল-

কাকে দেখাচ্ছ তুমি আগুনের লোভ !
এবার ভিজে নাও তোমার শেষ প্রণয়ে ,জলে স্থলে
অন্তরীক্ষে এসেছে তারই দিন , ধুধু পিচ রাস্তা ধরে
ভ্রম মরীচিকা টায়ার পোড়া গন্ধ- শুধুই রোদনের
দিন ভুলে ভিজিয়ে দাও নিয়ন বাতি হোক হাতে টানা
রিক্স , পাগলা মাতাল হোক বনেয়াদি মিনার ।

ভিজিয়ে দাও তুমি শরীরে মননে দহনে , এই বৃষ্টি
তুমি কাকে দ্যাখাচ্ছ ভয় ! কার হৃদয় ক্ষতে তোমার
প্রলেপ ! সোজা সোজা বাইপাস ধরে কীর্তিনাশা বৃষ্টি
আরো এগিয়ে যাও আমনের ক্ষেতে --
দ্যাখ , তিলোত্তমার চেয়েও কোন সুন্দর তিলত্তমা বঁধু
প্রতিক্ষিয়া দাওয়ায় আর বাখারিতে বাঁধা আছে সোনালী
স্বর্ণের উপঢৌকন ; যদি পারো তো বৃষ্টির ইতিহাস হও
সম ভালোবেসে - সৃষ্টির তিলোত্তমায় !







রংঘর

জলের বৈধ-অবৈধ প্রকারভেদে ছিনিয়ে নিয়ে প্রাণ
পয়ন্ত এক অট্টহাসি হৃদয়ের ; ক'জন বা
দুঃখকে বলে যা ঘুরে আয় হাসি পাহাড় 

এখন যে অনেক কাজ বাকি । ধূধূ প্রান্তসীমা
ঘিরে সেই তো রোদের নৃত্য , লু , বালিয়াড়ি
শুকনো পাহাড়ে'র খাদে বসতঘর আজীবন
নিঙরে রক্ত কালঘাম , হাস্যবিশারদ ক্যাবারে
শোক নেই তাপ নেই , পিস্টনে চাপ বাড়ে ঘূর্ণন
শুধুই চাকা ... ঘোরে তেল রাস্তায় ... কি জানি
এই রাস্তায় কিছু ঘর ছিল একসময় এখন শূন্যতায় !

গ্রাম ঘর বসত দূরে নিথর শামুক ; প্রাচীন বিদ্যায়
মুলিবাঁশে পেরেকের আন্দোলন
সবকিছু কি ভুলিয়ে দেয় সময় ?

ক'জন ই বা বোঝেন আত্মচরিতে জল বাহক চোখ
শুধু আমার নয় , সেই হিমাংশু পট্টনায়ক কাদের মিয়া
অরুন্ধুতি সেন যেভাবে ছবি এঁকেছিলেন হৃদয়ে
আমারটাও ততোখানি ......... কিম্বা নয় !

ঘর গুলোই থেকে যায় শুধু দুর্দিনেও অসহয়তার প্রতীক হয়ে ......
আমিও অন্যঘরে রঙ মাখিয়ে
বুরুশে তুলে রঙ তৃতীয় চতুর্থ পঞ্চম ঘরের নিবিড় খোঁজে ...
যদি পেয়ে যায় অবেলায়







অতি কথন

মধ্যরাতে দাঁড়িয়ে আছি ওহে জীবন !

এঁটেল কাদায় বদ্ধ নিউরন নৈকট্য এসেছে

যন্ত্রণা অজস্র সাপ হিস হিস করে সারারাত
প্রিয়তমা ভেবে ব্যাঙের মুখে চুমি !

অখণ্ড এক ব্যাপ্তিতে জগৎ
প্রাগৈতিহাসিক থেকেই নির্মাণ হৃদয়ে কুড়ে ঘর
সব দেঁতো পশুর চেতনা আমায় টানে
স্তব্ধ হবো সে বিশ্বাস নেই প্রাণে !

তোমার শরীর কে নয়
নিজের কায়া-ছায়া শত্রু আমার সর্বনাশ
রক্তের মাঝে হেমলকের ছড়াছড়ি
নিম্ন প্রদেশ রক্তে মাখামাখি
কেঁপে ওঠে তাঁরা আমার সাথে মধ্যরাতের যামিনী !

স্বপ্ন বিহীন বিনিদ্র রাতের গল্প
নিভে গেছে মোম আমিও আগুন খুঁজি
যেখানেই হাত রাখি ভুষো কয়লার অনুভব
আপাদমস্তক কাঁথাতে মুখ ঢেকে
নিজেকেই নিজে খুন করি !

এবার অমৃত থেকে বিষ খুঁজে নেন মানুষ
তরল অনুতাপ প্রতিরাতে পান করে
স্বপ্ন মানুষ
বিষাদের আকৃতি গড়েন